দোহার দুহাইল স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে যখনই বাংলাদেশ দলের অনুকূলে বল আসছিল তখনই গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে উঠছিল দর্শকরা। মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠেই খেলতে নেমেছে জামাল ভূঁইয়ার দল। করোনার কারণে ১০ হাজার ধারণা সম্পন্ন এই মাঠে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল ২ হাজার জনের। যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের হতাশ করে স্বাগতিক কাতার অবশ্যই ম্যাচটি জিতে নিয়েছে বড় ব্যবধানেই।

শুক্রবার বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের এই ম্যাচে ৫-০ গোলে জয় তুলেছে কাতার।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিয়মিত গোলরক্ষক আশরাফুল রানার বদলে আনিসুর রহমান জিকোর উপর ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট।

জাতীয় দলের হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলা তরুণ এই গোলরক্ষককে এদিন বড় পরীক্ষা দিতে হয়। অনেকটা ছোট খেয়া নিয়ে বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেয়ার মতোই অবস্থা ছিল।

ম্যাচের নবম মিনিটে বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষক প্রথম গোল হজম করেন। কাতারি লিগের আল রাইয়ান দলের মিডফিল্ডার আব্দুলআজিজ হাতেম গোলটি তুলে নেন।

আব্দুল্লাহ বিন খলিফা খ্যাত এই ভেন্যুতে দ্বিতীয় গোলটি করেন আল সাদ ক্লাবের ফরোয়ার্ড আকরাম আফিফ।

২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে প্রথমার্ধের মতোই দাপট দেখাতে থাকে কাতার।

একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে কোণঠাসা করে দেয় সফরকারীদের।

তৃতীয় ও চতুর্থ গোলটি আসে আলমোয়েজ আলীর পা থেকে।

৭২ মিনিটে আল দুহাইল ক্লাবের এই ফরোয়ার্ড পেনাল্টির মাধ্যমে গোল তুলেন। এর ঠিক ছয় মিনিট পর আরেকটি গোল আদায় করেন আলী।

অতিরিক্ত সময়ে আকরাম আফিফ নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি তুলে নেন।

স্প্যানিশ কোচ ফেলিক্স স্যানচেজের শিষ্যরা এদিন মোট ৩২টি শট নিয়েছিলেন। বিপরীতে সাদ উদ্দিন-মাহবুবুর রহমান সুফিলরা মাত্র ১টি শট নিতে সক্ষম হয়। বল দখল থেকে নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সব কিছুতেই ব্যর্থ ছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা।

বাছাই পর্বের ‘ই’ গ্রুপে গেল অক্টোবরে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-কাতার। ঢাকায় ২-০তে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

আর পড়ুন:   নিয়মবহির্ভূত এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ আর নয়

এদিন ফিরতি লেগে বড় জয়ের পর ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচ জয় পেল কাতার। শীর্ষে থাকা দলটির মোট পয়েন্ট ১৬। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে এক ড্র ও চার হারে তলানি থাকা বাংলাদেশের পয়েন্ট এক। গ্রুপের অন্য তিন দল হচ্ছে ওমান, আফগানিস্তান ও ভারত।