চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরবাসীর সন্তানদের শিক্ষার সংকট দূর করে সুশিক্ষিত করার লক্ষ্যে কর্পোরেশন অন্যান্য সেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ অব্যাহত রেখেছে। কাজেই এই দুই খাতে কোনো অবহেলা কাম্য নয়। সুলভে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে কর্পোরেশনে কর্মরত চিকিৎসক ও শিক্ষক সমাজকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আজ সকালে ৪০নম্বর পতেঙ্গা মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কাম সাইক্লোন শেল্টারের নুতন ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে একথা বলেন। এ সময় সাবেক কাউন্সিলর হাজী জয়নাল আবেদীন, শাহানুর বেগম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাইকার অর্থায়নে পতেঙ্গা মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কাম সাইক্লোন সেল্টারের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের অধীনে ৬তলাবিশিষ্ট দু’টি ভবন নির্মাণ করা হবে। দুই ভবনের প্রতি তলা হবে ২০ হাজার বর্গফুট। বর্তমানে প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সামনের বছরের ৩০ এপ্রিল এই কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, শিক্ষক সমাজ হলো মানুষ গড়ার কারিগর। আমার প্রত্যাশা থাকবে কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবে। কারণ এর উপর শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফল অর্জন ও সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠা নির্ভর করছে। প্রশাসক জাইকার কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের সকল উন্নয়ন কাজের অংশীদার। পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মহিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীরা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করা যায়।

উন্নয়নের ফলে পতেঙ্গা ওয়ার্ডের গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে

৪১নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের জনসাধারণের সাথে মতবিনিময়কালে চসিকের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশেনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সমুদ্র সৈকত, শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নবনির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক, নির্মাণাধীন বেটার্মিনাল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের কারণে পর্যটন এলাকা পতেঙ্গার গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর, চউক, ওয়াসাসহ অনেকগুলো সংস্থার উন্নয়নকাজ একসাথে চলমান থাকার কারণে এখনই দক্ষিণ পতেঙ্গার ওয়ার্ড অফিসের নির্মাণ কাজ করা যাচ্ছে না। তবে খুব সহসাই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার দুপুরে ৪১নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের জনসাধারণের সাথে ওয়ার্ডে কর্পোরেশনের রেস্ট হাউসস্থ অস্থায়ী ওয়ার্ড কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী, কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, সহকারী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, স্থানীয় সমাজসেবক নুরুল হোসেন, ছালেহ আহম্মদ, আব্দুল কাদের, মোস্তাফা কামাল, জাইদুল ইসলাম দুর্লভ, আশরাফ খোকন, মো. আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওয়ার্ডের বাসীন্দারা তাদের এলাকায় গ্যাস সংযোগের সংকটের বিষয়ে অবহিত করলে, প্রশাসক সুজন এলাকার অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন কাজের সাথে সমন্বয় করে সংযোগ প্রাপ্তি নিশ্চিতে কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কেজিডিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে তা সমাধানের ব্যবস্থা করবেন বলে তাদের আস্বস্থ করেন। এ সময় তিনি ৪১নম্বর ওয়ার্ড অফিস ভবন নির্মাণে নকশা ও প্রাক্কলন ব্যয় সম্পন্ন হয়েছে বলে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অবহিত করেন। প্রশাসক বলেন, আপনারা ভাগ্যবান। আপনাদের ওয়ার্ডে প্রায় সব কাজই সম্পন্ন করছে সরকার। শুধু ওয়ার্ড অফিস ভবনটির নির্মাণ কাজ হওয়া বাকি, তাও হয়ে যাবে। তিনি এসময় বলেন চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের কাছে বন্দরের উন্নয়নে চাইছে ৩ হাজার কোটি টাকা। পেল ১ হাজার কোটি টাকা। কাজেই সবসময় চাহিদামত যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। সেই তুলনায় আপনাদের ওয়ার্ডে অপূর্ণতা তেমন থাকছে না। তিনি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বিয়ে-শাদি সামাজিক অনুষ্ঠান বা জনসমাগম হয় সে ধরনের স্থান এড়িয়ে চলে জরুরি কাজে বাইরে বের হলে অবশ্যই যাতে মাস্ক পরিধানে সচেতন থাকতে বলেন। প্রশাসক বলেন, করোনার কারণে আমেরিকা-ইউরোপ ভারতের আর্থনীতিতে ধস নেমেছে। সেই তুলনায় আমাদের দেশের অর্থনীতি এখনো বড় কোনো বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। আমরা চাই না নাগরিক অসচেতনতায় স্বাস্থ্য সেবায় বড় কোন বিপর্যয়ের যাতে সৃষ্টি না হয়।

আর পড়ুন:   রাহুল গান্ধী গ্রেপ্তার

চসিকের অভিযান জুবলী রোডে দোকানের মালামাল ফুটপাত রাখায় জরিমানা

নগরীর চকবাজার থানাধীন কাঁচাবাজার গলি, কাঁচাবাজার মোড় হতে ধনিয়ার পুল হয়ে ফুল তলা পর্যন্ত কে বি আমান আলী রোডের উভয় পার্শ্বের ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে বসা দোকানপাট উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও বাজারের গলি দিয়ে সর্বসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা  ফেরদৌস এর নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

একই অভিযানে কোতোয়ালী থানাধীন এনায়েত বাজার জুবিলী রোড এলাকায় অবৈধভাবে রাস্তার জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল রেখে জনচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার দায়ে ২৬টি মামলা রুজুপূর্বক ৪৮ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।

অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চকবাজার থানা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন  পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।