মোহাম্মদ ইউসুফ *

আজ ২৪নভেম্বর, সাবেক এমপি, জাতীয় সংসদের প্যানেল-স্পীকার, বাণিজ্যমন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি প্রয়াত এ বি এম আবুল কাসেম মাস্টারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৫ সালের এদিনে দীর্ঘ ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চিরবিদায় নেন।

জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে যারা রাজনীতিতে আসেন, যারা ভোগ নয়, ত্যাগেই বিশ্বাসী, ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে যারা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন- কাসেম মাস্টার তাঁদেরই একজন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেছেন বলে কাসেম মাস্টার হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। দেশ, মাটি ও নীতি আদর্শকে ভালোবেসে তিনি রাজনীতির শেকড় থেকে শিখড়ে ওঠেছিলেন। তাঁর সাথে ছিল আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক; রয়েছে বহু স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাপ্রবাহ। তাঁর নিবিড় জনসম্পৃক্ততা ও সহজলভ্যতার কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিবেদিতপ্রাণ এ কর্মীবান্ধব নেতাকে আমি সীতাকুণ্ডের “নেলসন ম্যাণ্ডেলা” হিসেবে সম্মোধন করতাম। ধৈর্যের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে ৫বার মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পঁচাত্তরোত্তর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের ঝুঁকি নিতে সীতাকুণ্ডের কোনো নেতা যখন সাহস করতেন না, তখন কাসেম মাস্টার বারবার এমপিপ্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা উড্ডীন রাখেন।           ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রের অধিকারী, ত্যাগী ও পরিশ্রমী ছিলেন আমাদের প্রিয়নেতা কাসেমভাই। তাঁর চরিত্র ছিল ফুলের মতো পবিত্র। সকল গুণের সংমিশ্রণ ছিল সচ্চরিত্রবান এ মানুষটির মধ্যে। সততা, পরোপকারিতা, সত্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ, অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর মধ্যে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ-কুটিলতা দেখেনি; চোখে পড়েনি কোনোরকমের বদাভ্যাস। আগাগোড়াই তিনি ছিলেন সজ্জন ভদ্রলোক।তাঁর প্রীতিময় ও রুচিসম্মত ব্যবহার যেকাউকে মুগ্ধ করতো।স্বীয় লক্ষ্যঅর্জনে তিনি ছিলেন অটল, অবিচল। অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। অমায়িক ব্যবহারের কাসেমভাই ছিলেন সীতাকুণ্ডের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার ও দীপশিখা। এ মহৎ মানুষটির রাজনৈতিক জীবনাবলম্বনে “কাসেম মাস্টার” শীর্ষক একটি স্মারকগ্রন্থ (২০১৭) সম্পাদনা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি।

আর পড়ুন:   সীতাকুণ্ডে দিদারুল আলমকে আবার বিজয়ী  করার আহবান জানালের এম এ সালাম

সীতাকুণ্ডের দু’বারের সফল এমপি আবুল কাসেম তৃণমূল থেকে ওঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে পর্যায়ক্রমে তিনি জাতীয় সংসদে প্যানেল-স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। সন্ত্রাসীদের তিনি কখনো লালন-পালন করেননি। দলের বাইরেও সর্বমহলে তাঁর পরিচ্ছন্ন একটি ভাবমূর্তি ছিল। তাই মরেও এ কর্মঠ ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতা সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে অমর হয়ে থাকবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের তিনি প্রাণউজাড় করে ভালোবাসতেন এবং তাদের আপদে-বিপদে পাশে এসে দাঁড়াতেন। তাঁর আর্শিবাদ ও সহযোগিতায় সীতাকুণ্ডের অনেক আওয়ামী লীগ নেতা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি এতই জনদরদী নেতা ছিলেন যে, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে একদিন আগে থেকে তাঁকে নিয়ে ফেসবুক ওয়ালে লেখালেখির চিত্র দেখলেই সহজে বোঝা যাবে।          ষষ্ঠ প্রয়াণদিবসে প্রয়াত জননেতা আবুল কাসেমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

লেখক- প্রধান-সম্পাদক , সাপ্তাহিক চাগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম