রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় স্বর্ণ চোরাকারবারি ‘গোল্ডেন মনিরের’ বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করেছে র‌্যাব।

অভিযান শেষে আজ শনিবার (২১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব সোনার গহনা, অস্ত্র ও টাকাসহ চিহ্নিত স্বর্ণ চোরা কারবারি মনিরকে আটক করা হয়েছে। তার বাসা থেকে দু’টি বিলাসবহুল গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে ৩০টিরও বেশি স্থানে বাড়ি ও প্লট রয়েছে।

কাপড়ের সেলসম্যান থেকে যেভাবে তিনি ‘গোল্ডেন মনির’নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির হোসেন । সময়ের ব্যবধানে তিনি স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। এরপর রাজধানীর মৌচাকের একটি ক্রোকারিজ দোকানে তিনি কাজ নেন। সে সময় এক লাগেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হলে মনির লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

আশিক বিল্লাহ  বলেন, ঢাকা-সিঙ্গাপুর–ভারত, এই রুটে তিনি প্রথমে লাগেজে করে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটারসামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা-নেয়া করতেন। এই কাজগুলো করতে করতে তিনি লাগেজ স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন।

‘পরে বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকান দেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।’

চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় বলে জানান র‌্যাবের এ মুখপাত্র।

আর পড়ুন:   সীতাকুণ্ডে দিনব্যাপি  গণিত উৎসব

আশিক বিল্লাহ আরও বলেন, ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজউক থেকে প্লটসংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চুরি করে এবং অবৈধভাবে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দাফতরিক কাজে ব্যবহার করে রাজউক, পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে নামে-বেনামে অন্তত দুই শতাধিক প্লট নিজের করে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ৩০টির বেশি প্লটের কথা স্বীকার করেছেন।