মোহাম্মদ সেলিম *

বোয়ালিয়াকুলের রুহুল আমিন মেম্বারের ছেলে ৫৩বছর বয়সী কৃষক মো. ইব্রাহিম চারদাগে নিজের ৫৬শতক জমিতে শীতকালীন রবিশস্য কফি-টমেটোসহ নানাজাতের সবজিচাষ করেন।সবজিখেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত এমন সময়  বসুন্ধরা গ্রুপের  লোকজন ও স্থানীয়  জমি বেচা-কেনার দালালেরা কৃষক ইব্রাহিমকে বলতে শুরু করলেন, ‘চাচা, আপনার এগুলো (সবজিখেত) রাখতে পারবেন না, ক্ষতিপূরণ কতো দিতে হবে।’ এমন কথা শোনে  কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন কৃষক ইব্রাহিম। দালালেরা ৫০হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেন। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই সবজিখেতের চারপাশে আধুনিক মেশিনে মাটিভরাট শুরু করে দেয়। বিকেলের মধ্যে ক্ষতিপূরণবাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকার আশ্বাসে বসুন্ধরা গ্রুপের আগ্রাসী মনোভাব আঁচ করতে পেরে কোনোরূপ ‘বাড়াবাড়ি’ না করে সন্তানহারোনার মতো একবুক ব্যথা নিয়ে ঘরে ফিরে যান অসহায় কৃষক ইব্রাহিম। ২০/২৫দিন নিজের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমছাড়াও ১৫/২০দিনের সবজিখেতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকারও বেশি। সেই বিকেলে দালালেরা ধরাছোঁয়া দেয়নি। ২/৩দিন পর দালালেরা ২হাজার টাকা দিতে চায় ইব্রাহিমকে । কৃষক ইব্রাহিমের  মাথায় বজ্রপাত পড়ার অবস্থা। দিন-সপ্তাহ- মাস পার হতে লাগলো দালালদের একের পর এক টালবাহানা চলতে থাকে। দালালেরা একেকদিন একেক রকম ফোন নম্বর দিয়ে ইব্রাহিমকে চট্টগ্রাম শহরে (বসুন্ধরা গ্রুপের অফিস) গিয়ে যোগাযোগ করতে বললেন। এভাবে ঘোরাতে ঘোরাতো সাড়ে তিনবছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। সবজিখেতের ক্ষতিপূরণতো পায়নি, ৫৬শতক জমিও  নদীমাটি দিয়ে ভরাট  করে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের দখলে নিয়ে নেয়।

বসুন্ধরা গ্রুপের জোরপূর্বক দখলকৃত বোয়ালিয়াকুলের মুফতি সাদেক মনো আলম সড়ক

আবুল মহসিন মো. ইয়াহিয়া খানের মা মরহুম রহিমা খানম চৌধুরীর  ৫০গণ্ডা জমির মধ্যে ৪৭ গণ্ডা মাটি দিয়ে এমনভাবে ভরাট করেছে, জমির নিশানা পর্যন্ত রাখেনি। কাউকে না জানিয়ে  জমি ভরাট ও দখলের পর  দালালের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জমি কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সাড়ে তিন বছরে এর কোনো সুরাহা করেনি বসুন্ধরা গ্রুপ। এভাবে শুধু কৃষক ইব্রাহিম ও রহিমা খানমের নয় , বোয়ালিয়াকুল ও নুনাবিলের কয়েকশ’ কৃষকের রবিশস্য খেত,ধানিজমি, বসতবাড়ি জোরপূর্বক স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ দখল করে নেয়।

গেল সপ্তাহে সরেজমিনে বাঁশবাড়িয়ার বোয়ালিয়াকুল বসুন্ধরা গ্রুপের  অয়েল এন্ড গ্যাস প্ল্যান্ট এলাকায় গিয়ে দেখা  যায়, ভুক্তভোগিদের অভিযোগ-অনুযোগের শেষ নেই। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ায় ভুক্তভোগিরা জমায়েত হয়ে বলতে থাকেন বসুন্ধরা গ্রুপের জবরদখলের কাহিনী । কৃষকেরা জমির ক্ষতিপূরণ পায়নি, পায়নি জমির ন্যায্যমূল্য । উপকূলীয় বেঁড়িবাধে যাওয়ার তিনটি সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখলে নিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে , জেলেদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে দিচ্ছে না, শ্মশানে দাহ ও ধর্মীয়কাজে বাধাসহ  দখলবাজির সত্যতা  মেলে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে।

বসুন্ধরা গ্রুপের জোরপূর্বক দখলকৃত অলি অপর্ণাচরণ সড়ক

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বসুন্ধরা গ্রুপের জবরদখলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায়  বোয়ালিয়াকুল ও নুনাবিল এলাকার কৃষকের ফসলী জমি, বসতভিটা, জনবসতি, রাস্তাঘাট ও খাল ইচ্ছেমতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে দখল করে নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এখানকার কৃষকের মনের ক্ষোভ, বোবাকান্না দিনদিন ভারি হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল ও বসুন্ধরা গ্রুপের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ-ই  প্রতিবাদ ও রুখে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয় ভুক্তভোগিরা জানান, বসুন্ধরা অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের নামে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়ায় সমুদ্রউপকূল সংলগ্ন এলাকায় ৪/৫বছর আগে থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দালালদের গোপনে ম্যানেজ করে চাকরির সুযোগসহ নানা প্রলোভনের মাধ্যমে সহজ-সরল ও নিরীহ মানুষের কয়েক একর ধানিজমি ও বসতভিটা  ক্রয় করে।  যার ওপর দেশের সর্ববৃহৎ জ্বালানি তেল-শোধনাগার প্ল্যান্ট স্থাপন করবে দেশের অন্যতম  এ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। ১০হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ প্ল্যান্টটিতে লিকুফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ডিজেল,  পেট্রল, ফার্নেস অয়েল ও এভিয়েশন ফুয়েল (জেট এ-১) উৎপাদন করার কথা বলা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে।

আর পড়ুন:   প্রাণঝুঁকি নিয়ে দল সংঘবদ্ধ করেছেন শেখ হাসিনা
বোয়ালিয়াকুলে শ্মশানে সৎকার ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রতিনিয়ত বাধা দেয়ার কারণে শ্মশানস্থানে গিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে জেলে সম্প্রদায়

গত প্রায় ৩বছর থেকে প্ল্যান্টটিতে  শিল্প্রপতিষ্ঠান নির্মাণের উপযোগী করার জন্যে ১৫/২০ ফুট  উঁচু করতে শুরু করে  মাটি ভরাটের কাজ । সমুদ্রের৭/৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০/১২টি বড় বড় ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ৭/৮টি বিশাল আকারের লোহার পাইপ দিয়ে রাতদিন সমানে চালিয়েছে সমুদ্রের মাটি-বালি উত্তোলন। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের কেনা জায়গার চেয়ে এলাকার শতাধিক মানুষের ধানিজমি মাটিঢেলে জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে ।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে বসুন্ধরা গ্রুপ এখানকার  ৩/৪ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা পাহাড়সম উঁচু করে দখলে নেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পূর্বদিকের পাহাড়ের  পানিসহ পুরো  বাঁশবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকার বর্ষাকালের বৃষ্টির পানি বোয়ালিকুলের দেওমরা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তা নিষ্কাশিত হতো।  বসুন্ধরা গ্রুপ দেওমরা খালের পশ্চিমাংশ ভরাট করে দখলে  নেয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনে বিপর্যয় শুরু হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমদিকে সমুদ্র উপকূলে বোয়ালিকুলবাসীর নিত্য চলাচলের তিনটি সরকারি রাস্তা-১.অলি অপর্ণাচরণ সড়ক,২.মুফতি সাদেক মনো আলম সড়ক ও ৩. আদল গাজী সড়কের পশ্চিমাংশ পুরোপুরি ভরাট করে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের কব্জায় নিয়ে গেছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতারণার শিকার বর্গাচাষী নুর মোহাম্মদ

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল হক বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের কেনা জায়গায় পরিবেশ দূষণ না করে, জনসাধারণের  চলাচল ও বসবাসের ক্ষতি না করে  পরিবেশসম্মতভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলে  কারো আপত্তি থাকার কথা নয় । কিন্তু  তারা কৃষকের ফসলী জমি নষ্ট করেছে,  জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে বহু মানুষের জায়গা-জমি ’ ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এ চেয়ারম্যান আরো বলেন,‘ বসুন্ধরা গ্রুপ এলাকার সরকারি রাস্তা ও খাল ভরাট করে  জনগণের চলাচলের  পথ ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তাঘাট, খালবিল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের। এগুলো বেদখল হলে এর দায়দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদ এড়াতে পারবেনা’।

আবুল মহসিন মো. ইয়াইয়া খান বলেন, ‘আমার মায়ের দু’মৌজার ৪৭গণ্ডা জমি বসুন্ধরা গ্রুপ দখল করে ফেলেছে। তাদের মনগড়া ও চাপিয়ে দেয়া মূল্যে আমরা তা কখনও বিক্রি করবো না। এরা জুলুমবাজের কাজ করেছে। জমির প্রকৃতমুল্য পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কোনো কারখানা বা স্থাপনা নির্মাণ করলে  আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো’।

এখানের খোনকার বাড়ির ৭০ বছর বয়সী আবদুল মালেক, ‘মানবাধিকার কর্মী মাহমুদ নবী ক্ষোভের সাথে বলেন, বুসন্ধরা গ্রুপ মাস্তান স্টাইলে এবং চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ কৃষকের ধানি জমি জোরপূর্বক দখল করেছে। বৃটিশ আমল থেকে আমাদের চলাচলের যে ৩টি বড় রাস্তা ছিলো  তা-ও গত তিনবছরের বেশি সময় জোরপূর্বক তাদের দখলে নিয়ে ভরাট করে ফেলেছে’। তারা আরো বলেন , ‘ধানচাষ ও রবিশস্যের জন্য খ্যাত  জমিগুলোর চারদিকে প্রায় ৬/৭কিলোমিটার পর্যন্ত জোরপূর্বক দখল  ও পাহাড়সম উঁচু করে ভরাট করে ফেলায় এলাকাবাসীর জন্যে ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদে পদে আমরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। পানি চলাচলের গতি প্রকৃতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পানিতে তলিয়ে গিয়ে আমরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি ’।

এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের দখলদারিত্বের কারণে বোয়ালিয়াকুলের জেলেপাড়ার কয়েকশ জেলের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। জেলেদের সাগরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। উপকূলে নৌকা ভিড়তে দেয় না এ গ্রুপের আনসার বাহিনীর সদস্যরা। শুধু তাই নয়, জেলেদের শ্মশানে সৎকার ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও বাধা দেয়া হচ্ছে।

আর পড়ুন:   সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এ ব্যাপারে জেলে সর্দার  নিরঞ্জন, নিকুঞ্জ ও নন্দহরি জলদাস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চাটগাঁর বাণীকে বলেন,‘ আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে ৮শতক জায়গার ওপর নির্মিত এ শ্মশানে  আমরা দাহ করে আসছি। বসুন্ধরা গ্রুপ শ্মশানের গা ঘেঁষে উত্তর পাশে মাটির পাহাড় গড়ে তোলেছে। শ্মশানে শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও ধর্মীয় কার্যক্রম  করতে গেলে বাধা দিচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপের সশস্ত্র আনসার বাহিনী’।

জেলে সর্দারগণ আরো বলেন, ‘মাছধরার জন্যে ভ্যানগাড়ি করে সরঞ্জাম নিয়ে  সাগরে আসা যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত বাধা দেয়া হয়। সাগরকূলে  নৌকাগুলো ভিড়তে দিচ্ছে না’।

বাঁশবাড়িয়ার উপকূলবর্তী নদী থেকে  নির্বিচারে মাটি উত্তোলন করে বসুন্ধরা গ্রুপ শতশত একর ধানিজমি বসতবাড়ি পুকুর নালা নর্দমা ভরাটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে নুনাবিল এলাকায় গত তিনমাস আগে দেড়/দু’শফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ফলে সামুদ্রিক জোয়ারের লবণাক্ত পানি অনায়াসে ঢুকে ফসলী জমির অপূরণীয় ক্ষতি করছে।

বাঁশবাড়িয়ার  ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীরের প্রতিক্রিয়া জানতে ২৬ অক্টোবর রাতে  মোবাইলে  দুদফা যোগযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়-এর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি চাটগাঁর বাণীকে বলেন, ‘আমাদের কিছু না জানিয়ে তারা (বসুন্ধরা গ্রপ) শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে যা করছে, জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে করছে।’

জোরপূর্বক জমি দখল ,সরকারি রাস্তা ও খাল ভরাট প্রসঙ্গে জানতে বসুন্ধরা গ্রপের ডিজিএম আবু হেনার সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি চাটগাঁর বাণীকে বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার কোনো প্রজেক্ট করতে গেলে  একটু এদিক-সেদিক হয়। যদি হয় তা-ও অনিচ্ছাকৃত। আমরা কারো জায়গাজমি জোরপূর্বক দখল করেনি। করোনার কারণে এবং অনেক জমিবিক্রেতার কাগজপত্র সঠিক না থাকায় রেজিস্ট্রিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। জোরপূর্বক বা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি যারা বলছেন- তারা এলাকার  চোর-ডাকাত।’

জেলেদের শ্মশানে দাহ কাজে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা , আমরা লীজ নিয়েছি। সেখানে যে স্থাপনা  আছে আমরা মানবিক কারণে এখনও উচ্ছেদ করেনি। এখন যে শ্মশান আছে তার চেয়ে আমরা উন্নতমানের শ্মশান করে দেবো।’

এ বিষয় নিয়ে ২৬ অক্টোবর রাতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ- এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাটগাঁর বাণীকে বলেন, ‘জোরপূর্বক কারো জমি বা সম্পদ দখলের ক্ষমতা  সরকার কোনো  ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে  দেয়নি।  বসুন্ধরা গ্রুপ যদি ধানিজমি ভরাট ও জোরপূর্বক দখল করে থাকে, খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

এলাকার ভুক্তভোগিরা ক্ষোভের সাথে  চাটগাঁর বাণীকে  বলেন, সীতাকুণ্ডের এমপি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রহস্যজনকভাবে চুপ থাকায় বসুন্ধরা গ্রুপ শিল্পনির্মাণের নামে এলাকার ধানি জমি, খালবিল, রাস্তাঘাট ও সাগর  নিয়ে দখলবাজিতে মেতে ওঠে। এলাকার লোকদের চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে শতশত একর জমি জোরপূর্বক দখলে নিলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠান-নির্মাণের কোনো নামগন্ধ নেই। সাগর থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলে  ১৫/২০ফুট উঁচু করে বিশাল এলাকজুড়ে ভরাটকরা ওই জায়গাতে বিপুলসংখ্যক আনসারবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, শিল্পপ্লট হিসেবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যে এমন করেছে বলে মন্তব্য করছেন এলাকার  লোকজন।

কৃষিজমি, জলাভূমি  ভরাট ও নদী থেকে  অবৈধ মাটি উত্তোলন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ আর প্রধানমন্ত্রীও ধানিজমি ভরাট করে  কোনোধরনের শিল্পকারখানা নির্মাণ না করার বারবার নির্দেশনা দিলেও  বসুন্ধরা গ্রুপ তা আমলে নেয়নি।

লেখক, সম্পাদক, চাটগাঁর বাণী  ।