মো. আবুল হাসান/ খন রঞ্জন রায়  *

একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভর জাতি গঠন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা-চেতনার অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেজন্যই শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। জাতির মেরুদণ্ড সবল রাখার প্রত্যয় ও জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত শিক্ষা জ্ঞান, প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হলো-জ্ঞান আহরণ, নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে দাযিত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর থেকে মানসম্মত শিক্ষা শব্দটি বেশিবেশি উচ্চারিত হচ্ছে। শিক্ষা গ্রহণের মাধমে একজন মানুষ দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে সমাজে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সেই শিক্ষাই যদি মানসম্মত না হয় তবে সমগ্র দেশে এর বিপরীতে প্রভাব পড়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমাজের সমষ্টি হচ্ছে পুরো দেশ। আর এর প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা সমাজের পরবর্তী হাতিয়ার হিসেবে বেড়ে উঠবে তাদের জন্যও প্রযোজ্য। সুষ্ঠু সমাজ গঠন ও সামাজিক দায়দায়িত্ব রক্ষার সামগ্রিক সক্ষমতার দিক বিবেচনা করেই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে স্বল্পউন্নত দেশের স্বীকৃতিও পেয়েছে। সরকারের সাফল্যের পালে আরেকটি বিজয় তিলক পরেছে আকাশ বিজয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এখন বাস্তবতা। বিশ্বের ৫৭তম সক্ষম দেশ। এর সাথে অর্থবহ সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। দেশের সকল শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষার আওতায় এনে জীবন জীবিকার জন্যে যে নূন্যতম জ্ঞান দক্ষতা দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের প্রয়োজন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। মানহীন শিক্ষার মাধ্যমে কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করা যায় কিন্তু সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণ সম্ভব নয়।

মানসম্মত কর্মক্ষমতা সৃষ্টির শিক্ষাশক্তি নিয়ে সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর পৃথিবীর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেসময় দুনিয়া সেরা ১০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়কে তালিকাভুক্ত করা হত। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে অনুরোধের কারণে ২০১৪ থেকে তারা সারা পৃথিবীর ২৫,০০০ এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুনিয়া সেরা ১০০০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে তালিকাভুক্ত করছে। এ তালিকাভুক্তির জন্য কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখে। তারা দেখে শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের মর্যাদা এবং তাঁদের গবেষণার মান যে কোনো ধরনের সূচক বা র‌্যাংকিং তৈরির জন্য কতোগুলো বিষয়বস্তু বিবেচনায় আনা হয়। সূচক তৈরির জন্য নির্ধারিত বিষয়বস্তু বা বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বদলালে পুরো সূচকটিই বদলে যাবে। যেমন, CWUR সূচক ২০১৬ তে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড দুনিয়া শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। CWUR সূচক তৈরির উপায়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সেখানে সর্বমোট ৮টি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো: ১. শিক্ষার মান (Quality of Education) ২৫%, ২. অ্যালামনাইদের কর্মসংস্থান (Alumni employment) ২৫%, ৩. শিক্ষকদের মান (Quality of Education) ২৫%, ৪. প্রকাশনা (Publications)  ৫%, ৫. প্রভাব (Influence)  ৫%, ৬. প্রতিষ্ঠান/প্রকাশনার নামোল্লেখ (Citations)  ৫%, ৭. বড় পরিসরে প্রভাব (broad impact) ৫%, ৮. স্বত্ব (Patents)  ৫% CWUR সূচকের দুনিয়া সেরা ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৪টি যুক্তরাষ্ট্রে, চীনে ৯০টি, জাপানে ৭৪টি, ব্রিটেনে ৬৫ টি, জার্মানিতে ৫৫টি, ইতালিতে ৪৮টি, স্পেনে ৪১টি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৬টি, অস্ট্রেলিয়ায় ২৭টি, তাইওয়ানে ২১টি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে ১৬টি (World rank ৩৫৪ থেকে ৯৫১ এর মধ্যে) এবং পাকিস্তানে ১টি (World rank ৮৮৯) বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বাংলাদেশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুনিয়া সেরা ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায়নি। সূচকের প্রথম ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫টির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে। সূচক তৈরিতে সামাজিক কল্যাণ, মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান, আবিস্কার বা উদ্ভাবন-অবস্থান হিসাব করা হয়। তাদের আদর্শও লক্ষ সুনির্দ্রিষ্ট করা থাকে।

আর পড়ুন:   আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন স্থগিত

দুর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে খুঁজে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যর হদিস পাওয়া যায় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়-সর্ম্পকিত বক্তেব্যের মধ্যে দেখা যায় যে, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে তা এর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজে সঞ্চালন করার একটি উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্নে ছিলো (The main purpose of the University was to create new areas of knowledge and disseminate this knowledge to the society through its students). কিন্তু বর্তমানে সার্টিফিকেট বিতরণ ছাড়া এর অন্য কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আছে কিনা তা অস্পষ্ট। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো ধরনের মূল্যবোধের কথা ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় না।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ উচ্চ-শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো উদাহরণ, উপমা বা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পারেনি; যেমন পেরেছে পোশাক শিল্প বা ক্রিকেট খেলায়। এমনকি সবজি চাষ, মৎস্য চাষ আর আকাশ সংস্কৃতিতো রয়েছেই। আমাদের বাংলাদেশীদের দ্বারা উদাহরণ তৈরি অসম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মনোযোগ দিলে উচ্চশিক্ষায় আমরা স্থাপন করতে পারব দৃষ্টান্ত; বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্ন্তভুক্ত হবে দুনিয়া সেরা ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাইওয়ানের মতো দেশটিতে যদি দুনিয়া সেরা ১,০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি থাকতে পারে তবে বাংলাদেশে একটিও না থাকে তা লজ্জ্বাজনক নয়?

যে দেশে শিক্ষার মান ভালো সেদেশ সমৃদ্ধ। একসময় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা পদ্ধতি শ্রেষ্ঠ ছিল বলেই তাঁদের সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যেত না। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রদান করে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে মনিটর করা হয় এবং সে অনুসারে পুরস্কার বা তিরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নীতিমালা অনুসরণ করা হয় না। 

পৃথিবীর যে কটি দেশ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে যেমন গর্ব করি, তেমনি এটি থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণ করে থাকি। একটি দেশ কিংবা জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সে দেশ বা জাতির পুরনো আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জাতি হিসাবে উদ্বেগের যে সমসাময়িককালের শিক্ষা সংস্কৃতিতে আমরা খুব দ্রুত পিছিয়ে পরছি। ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে ওয়ারী বটেশ্বর বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান প্রত্মতাত্ত্বিক নির্দেশনা। ধারণা করা হয় ওয়ারী বটেশ্বর ২৫০০ বছর আগে একটি দুর্গনগর। গ্রীক দার্শনিক ও গণিতবিদ টলেমির (খ্রিস্টপূর্ব ১৬৮-৯০) বিখ্যাত বই ‘Geographia    তে সোনাগড়া নামে যে জনপদের উল্লেখ্য আছে তা আজকের ওয়ারী বটেশ্বর। গর্ডন চাইল্ডের মতে, ওয়ারী বটেশ্বর অঞ্চলটি টলেমির উল্লেখিত  ‘সোনাগড়া। কারণ ওয়ারি বটেশ্বরে প্রাপ্ত প্রাত্মতত্ত্বগুলোর সাথে শ্রীলংকার মানটাই, দক্ষিণ ভারতের আরিকামেদু, থাইল্যান্ডের কিয়ন থম থেকে প্রাপ্ত প্রত্মতত্ত্বের সাথে মিল আছে।

ওয়ারী বটেশ্বর নরসিংদী জেলার বেলাব থানার ওয়ারী ও বটেশ্বর নামীয় দুইটি গ্রামব্যাপি বিস্তৃত। ওয়ারী-বটেশ্বর প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড় এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠেছিল। ২০০০ সালের দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ওয়ারী বটেশ্বর খনন কাজ শুরু করে। খনন করার পর তারা প্রাচীন রাস্তা, ঘর, টেরাকোটা, রৌপ মুদ্রা, মৃৎ সামগ্রী, হাতিয়ার এবং অন্যান্য প্রত্মতত্ত্ব খুঁজে পান। যা এখন জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহিত আছে। ওয়ারী বটেশ্বর থেকে ৪ কি.মি. দূরবর্তী মন্দিরভিটা নামক গ্রামে একটি বড় বৌদ্ধ মন্দির পাওয়া গেছে। এ মন্দির থেকে ধারণা করা হয় ওয়ারী বটেশ্বর অর্থাৎ সোনাগড়ার জনগণ বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছিল।

আর পড়ুন:   সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সার্বিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে  

ওয়ারী বটেশ্বরের আশেপাশের অনেকগুলো এলাকা নিয়ে সোনাগড়া জনপদ গড়ে ওঠেছিল। এর প্রমাণ রাঙ্গারটেক, কেন্দ্রয়া, মরজাল, চণ্ডীপাড়া, পাটুলী, জয়মঙ্গল, মন্দিরভিটা, জানকারটেক, গোতাশিয়াসহ আরও অনেকগুলো এলাকা থেকে প্রত্মতত্ত্ব নির্দশন পাওয়া যায়। ওয়ারী বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গ নগর বা একটি নগর কেন্দ্র। ওয়ারী বটেশ্বর থেকে আবিস্কৃত প্রত্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় একটি একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র। এই নগর ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকায় গড়ে ওঠে। ভৌগলিক অবস্থান থেকে বুঝা যায় সোনাগড়া জনপদের জনগণ বন্যা থেকে বাচাঁর জন্য উচুঁ ভূমিকে বসতি হিসেবে বেছে নিয়েছিল। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করত। এই জনপদের সাথে গ্রীক সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

সোনাগড়া ছিল উন্নত নগর। এখানে ১৬০ মিটার একটি রাস্তা আবিস্কৃত হয়েছে। এছাড়া ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর পাওয়া গেছে। প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অবশিষ্টাংশ এখনও টিকে আছে। এই দুর্গের পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৫.৮ কি.মি. দীর্ঘ, ২০ মি. প্রশস্ত, ১০ মিটার উচু অসম রাজার গড় নামে একটি মাটির বাঁধ রয়েছে। সম্ভবত এটি সোনাগড়ার দুর্গ প্রাচীর ছিল। এই রকম দুর্গ প্রাচীর নাগার্জুম, বলি মাউন্ড, হস্তিনাপুর, রাজগৃহ, কৌশাম্বীতে আবিস্কৃত হয়েছে। ওয়ারী বটেশ্বরের অধীবাসিরা ছিল কৃষিজীবী। এদের উৎপাদিত উদ্ধৃত্ত ফলন নগরে বসবাসরত ধনিক, বণিক, পুরোহিত, কারিগর ও রাজকর্মচারীদের খাদ্য চাহিদা মেটাত। ওয়ারী বটেশ্বরের অধিবাসীরা উন্নত প্রযুক্তির সাথে পরিচিত ছিল। তারা ধাতু গলিয়ে মুদ্রা তৈরি, পুতির সাথে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার করে অলংকার তৈরি জানত। তাদের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও রোমান সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ছিল। ওয়ারী বটেশ্বর থেকে প্রাপ্ত রুলেটেড মৃৎপাত্র, স্যান্ডউইচ, কাচের পুতি, র্স্বণ আবৃত কাচের পুতি, টিন মিশ্রিত ব্রোঞ্চ ইত্যাদি উপকরণ এর প্রমাণ বহন করে।

ওয়ারী বটেশ্বরের দুর্গ নগর, প্রত্মতত্ত্ব, কৃষি, শিল্প সামগ্রী, সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো পর্যালোচনা করলে অনুধাবন করা যায়। এখানে একটি আন্তর্জাতিকমানের বৃহৎ আকারের শিল্প কলা কৌশল শিক্ষার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি, চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং, সমরবিদ্যা, সংস্কৃতি, পানি, শাস্ত্রীয় ডিগ্রি প্রদান করা হতো। উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিমের জ্ঞান পিপাসুদের এখানে অধ্যায়নে সুযোগ ছিল। ওয়ারী বটেশ্বরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবী যৌক্তিক। আর তা হলে এই শতাব্দীতেই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়র একটি হবে ওয়ারী বটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গনেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা চেতনা, দূরদর্শীতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সুউচ্চ ও প্রখর। তাঁর নেতৃত্বে সিদ্ধান্তে একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুচিন্তিত ফলাফল পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দেশের সমৃদ্ধির পথে সরকারের এতদিনকার সব চেষ্টা অর্জন কি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানের জন্য বৃথা যাবে? সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন আমাদের সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা, সাহস ও মূল্যবোধকে বাড়ানো। 

লেখকদ্বয়ের পরিচিতিঃ আহ্বায়ক / সদস্য সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় বঞ্চিত জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদ।

khanaranjanroy@gmail.com