১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশ হেফাজতে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পল্লবী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামি পুলিশের ‘দুই সোর্সকে’ ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার(০৯সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এই রায় ঘোষণা করেন।

এর মধ্য দিয়ে এ প্রথম নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা কোনো মামলার রায় হলো। আইনটি ২০১৩ সালে পাস হয়।

ইশতিয়াক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন-পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম ও এএসআই কামরুজ্জামান।

অন্য দুই আসামি হলেন পুলিশের কথিত সোর্স সুমন ও রাসেল। তাদের সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে রায়ে।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে কামরুজ্জামান ও রাসেল পলাতক। কারাগারে আছেন জাহিদুর রহমান ও সুমন। জামিনে ছিলেন রাশেদুল ইসলাম। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ে বলা হয়েছে, পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান খান, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন সাজা খাটার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিতে হবে, যা দিতে না পারলে আরও ছয় মাস জেল খাটতে হবে তাদের।

অর্থদণ্ড ছাড়াও আসামিদের প্রত্যেককে নিহতের পরিবারকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণের এ টাকা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিবারকে দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে কোনো আপিল করা যাবে না।

বিচারক তার রায়ে বলেছেন, ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোনো মামলায় দেশে এটাই প্রথম রায়। আর তিন পুলিশ সদস্যকে যে শাস্তি দেয়া হয়েছে, এ আইনে সেটাই সর্বোচ্চ সাজা।

২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে দুই ভাই ইশতিয়াক হোসেন জনি এবং ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে আটক করে পুলিশ। বড় ভাই জনির মৃত্যু হয় পুলিশ হেফাজতে।

ইমতিয়াজ হোসেন রকি অভিযোগ করেন, ওই রাতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছিল তার ভাইয়ের।

এ ঘটনায় মামলা করেন তিনি। ২০১৫ সালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৬ সালে বিচার শুরু হয়।