৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেশের ৮৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ মানুষই ঘুষ দিচ্ছেন কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ ছাড়াই। এসবের প্রতিবাদ করেন ২৫ শতাংশ মানুষ যার মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিবাদ করে সুফল পান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত ‘তথ্য অধিকার আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ: আইনের প্রথম দশকের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড.  ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনের প্রথম দশকে বেশ ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে তবে তা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌছাতে পারে নি। যদিও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য ১০ বছর খুব বড় একটা সময় নয়।’

সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশের মধ্যে গোপনীয়তার সংস্কৃতি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য যে জনস্বার্থে জনগণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশযোগ্য একটি বিষয়, এবং তা জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত, এ উপলব্ধি ও চর্চা অপরিহার্য। তথ্য কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী ও কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্পৃক্ততায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের সাথে সাংঘার্ষিক আইন বিশেষকরে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যা বাক্স্বাধিনতা ও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনাকে খর্ব করার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে তাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ১০০ জন ব্যক্তির ওপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন, যেখানে ৮৯ শতাংশ মানুষ তাদের জীবনযাপনে দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকে। এছাড়া তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ, তন্মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষ পরিষ্কার ধারণা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, জরিপকৃতদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, তথ্যের ফলে দুর্নীতি কমে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক আন্দোলন তেমন কার্যকরি নয় কেননা জরিপকৃতরা বিশ্বাস করেন বেশিরভাগ রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিবাজ। বরং তারা সামাজিক আন্দোলনের প্রতি তাদের আস্থা বেশি। তাছাড়া, তথ্য অধিকার আইনকে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয় জরিপে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকাণ্ডে জনগণের অধিকার সচেতনতা ও অংশগ্রহণ করার পদ্ধতি হচ্ছে তথ্য অধিকার আইন। একে কার্যকর করার মাধ্যমে জনগণ সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারে।

আর পড়ুন:   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. অনন্য রায়হান, প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য, পরিচালনা পর্ষদ, ডি’নেট এবং টিআইবি উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।