২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়া দুই ভাই। পুরান ঢাকায় এনু-রুপন নামেই পরিচিত তারা। তাদের মধ্যে এনু গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আর ছোট ভাই রুপন যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক। গেণ্ডারিয়া ও নারিন্দা এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তারা।

এনু-রুপনরা ছয় ভাই, সবাই পুরান ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র এনামুল হকেরই ঢাকা শহরে ১৫টি বাড়ি রয়েছে। আর পুরান ঢাকার ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, কোতোয়ালি থানা এলাকায় এই পরিবারের ৫০টির মতো বাড়ি রয়েছে।

১৯৮৫ সাল থেকেই এনামুল ওয়ান্ডার্স ক্লাব ও রুপন আরামবাগ ক্লাবে জুয়া খেলত। বছর তিন-চার আগে হঠাৎই দুই ভাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি কিনতে শুরু করে। গড়ে তুলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বজায় রাখতে চুন থেকে পান খসলেই অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন তারা।

ওয়ান্ডার্স ক্লাবে যে ক্যাসিনো পরিচালিত হয়ে আসছিল, তার অন্যতম শেয়ার হোল্ডার ছিলেন এনামুল। অন্যদিকে আরামবাগ ক্লাবের ক্যাসিনোতে শেয়ার ছিল তার ছোটভাই রুপনের। সম্প্রতি ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করার পর ক্যাসিনোর টাকা লুকাতে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড থেকে ৫টি ভল্ট কেনেন এনু রুপন। ভল্টে সব টাকা রাখার জায়গা না থাকায়, সেসব টাকার কিছু অংশ স্বর্ণে রূপান্তর করেন তারা।

আজ মঙ্গলবার(২৫সেপ্টেম্বর) ওই দুই ভাইয়ের সন্ধানে পুরান ঢাকার বানিয়া নগরে এনামুলের বাড়িতে প্রথম অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে তিনটি ভল্ট উদ্ধার করা হয়, পাওয়া যায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা এবং ৭৩০ ভরি সোনা ও পাঁচটি অগ্নেয়াস্ত্র।

পরে নারিন্দায় এনামুলের কর্মচারী আবুল কালাম ওরফে কালার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি ভল্ট উদ্ধার করা হয়। সেখানেও পাওয়া যায় দুই কোটি টাকা এবং একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল।

আর নারিন্দার শরৎগুপ্ত লেনে এনামুলের বন্ধু হারুন উর রশিদের বাড়ি থেকে ৫ম ভল্টটি উদ্ধার করে র‌্যাব, তাতেও দুই লাখ টাকার সন্ধান পাওয়া যায়।

আর পড়ুন:    পুলিশের ‘গায়েবি মামলায়’ উদ্বিগ্ন টিআইবি

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কেএম শফিউল্লাহ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, ইংলিশ রোড থেকে এনামুল ও রুপন পাঁচটি ভল্ট সংগ্রহ করেছে। ক্যাসিনোর লাভের টাকা এসব ভল্টে রাখা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।

শফিউল্লাহ বলেন, জুয়ার টাকা দিয়ে এরা অনেকগুলো বাড়ি কিনেছে। এখন পর্যন্ত আমরা এনামুলের ১৫টি বাড়ির সন্ধান পেয়েছি। আমরা শুনেছি, গত সপ্তাহে অভিযান শুরুর পরপরই এনামুল হক থাইল্যান্ডে পালিয়েছে এবং রুপন দেশেই গাঢাকা দিয়ে আছেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান  বলেন, ‘আমাদের কাছে পাঁচটি ভল্টের তথ্য ছিল। সব কয়টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রথম তিনটি ভল্টে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও ৭৩০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আর পরের দুটিতে দুই কোটি করে চার কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে নগদ পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা প্রায়, ছয়টি অস্ত্র ও ৭৩০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে পুরো অভিযানে।’