৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

মোহাম্মদ ইউসুফ *

গতানুগতিকতাকে পরিহার করে, ইটঘেরা বদ্ধঘরে নয়, খোলাআকাশের নিচে প্রকৃতির কোলে ভিন্ন এক নয়নজুড়ানো অনাবিল প্রাকৃতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং হিলটাউনের ১৬তম অভিষেক অনুষ্ঠান ও ১০০০তম নিয়মিত সভা।২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সন্ধ্যারাতে অনুষ্ঠেয় এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের কথা শোনে ক্লাব-সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয়েছে একধরনের উৎসবের আমেজ।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে ফয়’স লেক সি-ওয়ার্ল্ড চট্টগ্রামের রোটারিয়ানদের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় রূপ নেবে।রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮২ এর গভর্নর লে. কর্নেল (অব.) প্রিন্সিপাল এম আতাউর রহমান পীর এতে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।এছাড়া সাবেক জেলা গভর্নর, সহকারি জেলা গভর্নরসহ চট্টগ্রামের সিনিয়র রোটারিয়ানরা এ অনুষ্ঠানে শরিক হবেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবরিক ব্যস্ততাসহ নানান কারণে হাতের কাছে অবস্থিত দর্শনীয় ফয়’স লেক অনেকের ইচ্ছে থাকলেও ঘোরাহয়ে ওঠে না।রোটারি ক্লাবের(হিলটাউন) অনুষ্ঠানের সুবাদে হলেও কিছুটা সময় ভিন্ন আবেষ্টনীতে কাটানো যাবে।সুযোগ হবে রাতের ফয়’স-লেককে ভিন্নআমেজে অবলোকনের।প্রাত্যহিক কর্তব্য-কর্মের একঘেয়েমি থেকে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও মুক্তি মেলবে।অবকাশ-যাপনেরও প্রয়োজনীয়তা আছে।অবকাশই মানুষের মধ্যে নতুন কর্মপ্রেরণার সঞ্চার করে।এদিকে আবার ইচ্ছে করলে যেকেউ এখানে ২৫% ডিসকাউন্টে নিছখরচায় রাতযাপন করতে পারবেন।রোটারি ক্লাব চিটাগাং হিলটাউনের রোটারিয়ানদের কেউ কেউ সপরিবারে রাত এখানে কাটাবেন।অনুষ্ঠানের প্রধানঅতিথি রোটারি গভর্নর এম আতাউর রহমান পীরও অনুষ্ঠানশেষে এখানে রাতযাপন করবেন।এ যেন এক ঢিলে দু’পাখি শিকার করা। একদিকে অনুষ্ঠান উপভোগ অন্যদিকে চড়ুইভাতি’র অন্যরকম স্বাদ আস্বাদন করা।

নদীমাতৃক আমাদের এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ-আয়োজন, উৎসব, খেলাধুলা সবকিছুতেই হ্রদ-নদী ও নৌকার সংশ্লেষ রয়েছে।ফয়’স-লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার একটি কৃত্রিম হ্রদ। এ হ্রদের চারপাশের মনোরম মায়াবি পরিবেশ ও  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে ঘোরতে আসেন।দর্শনার্থীদের জন্যে এ বিনোদন উদ্যানে হ্রদে নৌকাভ্রমণ, রেস্তোরাঁ, ট্র্যাকিং ও কনসার্টের আয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রামের ইউএসটিসি’র বিপরীতে পাহাড়তলীর খুলশী এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ফয়’স-লেকের তোরণ।সেখান থেকে কিছুটা ভেতরে এর মূল প্রবেশপথ।শুরুতেই ফয়’স-লেকের অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট। সার্কাস সুইন, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, জায়ান্ট ফেবিস হুইল, ড্রাই স্লাইড, ফ্যামিলি ট্রেন, প্যাডেল বোট, ফ্লোটিং ওয়াটার প্লে, পাইরেট শীপের মতো আধুনিক মজাদার রাইট আছে এখানে। এখান থেকে ওপরে টিলায় আছে বনভোজনকেন্দ্র।কাছাকাছি আরেকটি টিলায় আছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।এখান থেকে দেখা যায় চট্টগ্রাম শহরের বার্ডস আই ভিউ।

আর পড়ুন:   সাদার্ন ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি বিভাগে দিনব্যাপী ভার্চুয়াল কর্মশালা

অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড এর উত্তরে টিলার ওপরে মূল ফয়’স লেক।এর দু’পাশে সবুজেঘেরা উঁচু পাহাড়মালা। এসব পাহাড়ের সংরক্ষিত বনে উদাসীনভাবে ঘোরে বেড়ায় চিত্রাহরিণ, খরঘোসসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণি। লেকের শেষপ্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে পানির রাজ্যে রোমাঞ্চকর ভিন্নএক জগৎ-সি-ওয়ার্ল্ড।মুল প্রবেশপথে অগ্রসর হয়ে নৌকায় ছড়ে সি-ওয়ার্ল্ডে যাওয়া যায়।আধুনিক ওয়াটার পার্কের বিভিন্ন রাইড আছে এখানে।সি-ওয়ার্ল্ডের পাশেই প্রকৃতির কোলে নির্জনতায় অবকাশ যাপনের জন্যে আছে বেশকিছু রিসোর্ট।রিসোর্টে যেতে হয় নৌকায় চড়ে।লেক ও পাহাড়মুখি দুধরনের আবাসনব্যবস্থা আছে এখানে।বারান্দায় বসে লেক আর পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।মধুচন্দ্রিমার জন্যে এটি একটি আকর্ষণীয় স্পট বটে।

লেখক- প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম