৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলণ স্বরণে আজ মঙ্গলবার(১৭সেপ্টেম্বর) বেলা ৫ টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইস্টিটিউট হলে গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মশিউর রহমান এর পরিচালনায় মাস্টার নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানঅতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধা ড. অনুপম সেন। মুখ্য আলোচক ছিলেন গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান। সকল নাম ফলকে বাংলা ভাষার প্রাধান্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্থরে বাধ্যতামুলক বাংলাভাষা চালু করা, বাধ্যতামুলক একমুখী প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলনের দাবিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আবদুল মান্নান মাস্টার, শাহজাহান চৌধুরী,  সুশময় চৌধুরী, সোলায়মান খান, তৈয়বুর রহমান, দেওয়ান মাকসুদ আহমদ, অধ্যাপক মো ইদ্রিস, ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস, অধ্যাপক ফারুখ হোসেন, সরওয়ার আলম মণি, রুবা এহসান, কাজী রাজেশ ইমরান, আলমগীর রুমি, জয়নুদ্দিন জয়, বেলাল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার রুবেল, রিপন তালুকদার প্রমুখ।

মুখ্য আলোচক তার লিখিত প্রবন্ধে বলেন, ৬২ সালের শরীফ কমিশন ও ৬৪ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে বাংলার ভাষার বদলে খিচুরী ভাষা তৈরী, রোমান হরফে বাংলা লেখা, শিক্ষাকে পণ্য বিবেচনা করাসহ বাঙালি ছাত্র যুবকদের অবাঙালি করে তোলার প্রয়াস ছিল। পাকিস্তানি এ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সেই আন্দোলনের পথ বেয়েই ৬৬ সালের ৬দফা আন্দোলন, ৬৯ গণআন্দোলন, ৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে ও মুক্তিযুদ্ধেও সূচনা ও সফলতা এসেছিল। দুঃখের হলেও সত্যি স্বাধীন বাংলাদেশের সকল সরকারের আদেশ, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্বেও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকলক্ষেত্রে বাংলা ভাষা আজো উপেক্ষিত। সরকারি অফিসে  বাংলার প্রচলন হলেও আদালতসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাংলার প্রচলন নেই। সরকারি অনুমতি নিয়ে অনেক টিভি চ্যানেলের ইংরেজী নামকরণ হয়েছে। বিশ্ব উদাহরণ উপেক্ষা করে এখনো উচ্চ শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে বাংলাকে বাধ্যতামুলক করা হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো ৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এটা নিয়ে কখনো রাজপথে কোনো আন্দোলন হয়নি। প্রবন্ধে বলা হয় বাংলাকে রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার জন্য তাই প্রয়োজন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা।

আর পড়ুন:   না ফেরার দেশে চলে গেছেন শিল্পী হাশেম

প্রধান অতিথি ড. অনুপম সেন বলেন, বিশ্বের সকল উন্নতদেশ তাদের নিজ ভাষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে উন্নত হয়েছে। আমাদের বর্তমান উন্নতির ধারাকে টেকসই করতে হলে আমাদের বাঙালিত্বের ধারায় ফিরে যেতে হবে, বাংলাভাষা ও সংষ্কৃতির চর্চার উপর জোড় দিতে হবে, শিক্ষাসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলার প্রচলন ঘটাতে হবে। ৬২ সালের স্মৃতিচারণে তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে তিনি এ আন্দোলনে জড়িত থেকে পাকিস্তানিদের বর্বরতা দেখেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলন শুরু হয়েছিল সোহরাওয়ার্দীর গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে। শরীফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পর সে আন্দোলন আরো গতি পায়। পাকিস্তান সরকার যে শিক্ষা সংকোচন নীতি, বাংলা ভাষাকে বাদ দেয়ার যে নীতি গ্রহণ করেছিল তার বিরুদ্ধে দেশের সমগ্র ছাত্রসমাজ জড়িত হয়। এ আন্দোলন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি বাংলাভাষা সংক্রান্ত আইন ও আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে কঠোর অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।

 

মশিউর রহমান খান

সদস্য সচিব