৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অবশেষে রাষ্ট্রীয় পাতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চতুর্থ ও শেষ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ (বিজি-৫০০৪) আজ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪ টায় দেশে এসে পৌঁছেছে। জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজহংসের উদ্বোধন করবেন।

বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টায় রাজহংস দেশে এসে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজহংসের উদ্বোধন করবেন।

এর আগে বিমান সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টায় রাজহংস ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকাল পৌনে ৪টায় পৌঁছার কথা রয়েছে।

রাডারের কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর বিমানের কাছে রাজহংসকে হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানকে রাজহংসের ছাড়পত্রসহ চাবি বুঝিয়ে দেয় সংস্থাটি।

বিমানের পক্ষে পরিচালক (প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট) মো. মমিনুল ইসলামের হাতে রাজহংসের মালিকানা হস্তান্তরসহ চাবি বুঝিয়ে দেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পরিচালক (ডেলিভারি কন্টাক্ট) জন বর্বার।

এ সময় বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ বিমান ও বোয়িং সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘রাজহংস’ দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাডারে ত্রুটির জন্য সেদিন আর আনা যায়নি রাজহংসকে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ ত্রুটি সারাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় চায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ইতিমধ্যে চারটি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এগুলো হল- আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। এর আগে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ইআরের নামও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া যথা- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত এবং ময়ূরপঙ্খী।একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে ড্রিমলাইনার। এটি চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি কম লাগে। অন্য তিনটি ড্রিমলাইনারের মতো ‘রাজহংসর আসনসংখ্যা ২৭১টি। বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানটিতে যাত্রীরা অন্যান্য আধুনিক সুবিধা, ইন্টারনেট ও ফোন কল করার সুবিধাও পাবেন।