৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আজমল হোসেন, মিরসরাই *

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। আজ শনিবার(১২সেপ্টেম্বর)  অনুষ্ঠিত হবে দলের বর্ধিত সভা। নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে ওয়ার্ড, পৌরসভা ও ইউনিয়নে। তৃণমূল থেকে উপজেলা পর্যায়ে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, আগামী শনিবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে দলের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রথমে ওয়ার্ড এবং দ্বিতীয় দফায় ইউনিয়ন ও পৌরসভা ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবশেষে হবে উপজেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। তবে এসব প্রক্রিয়া দলের স্থানীয় অভিভাবক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির দিকনির্দেশনা মেনেই করা হবে।

মিরসরাই উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১৬ ইউনিয়নের মোট ১৬২ ওয়ার্ডে দলের কাউন্সিল বাস্তবায়নের কাজ আগামী ২০সেপ্টেম্বর শুরু হতে পারে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে সব ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। পরবর্তীতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা।

এদিকে গত এক মাসেরও বেশি সময়জুড়ে উপজেলার হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান সবখানে মানুষের আলোচনায় ঠাঁই পাচ্ছে দেশের ইতিহাসের প্রাচীনতম এই দলটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা। এখানকার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন-পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মো. জাহাঙ্গীর, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, মিরসরাই উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি খন্দকার শফি ও দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লবের নাম শোনা যাচ্ছে।

আর পড়ুন:   ক্ষমতায় ফিরলেই সরকারি কর্মীদের জন্যে বড় ঘোষণা করবেন মোদী

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হন জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন তাঁরা। বর্তমান কমিটি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন প্রতিহত করার পাশাপাশি দলকে করেন সুসংগঠিত। ইউনিয়ন পরিষদ ও দুই পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকারের সকল নাগরিক সুবিধা তৃণমূলে পৌঁছে দিয়ে দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করেন।

এদিকে প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নতুন কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও এবার তা হচ্ছে ৭ বছর পর। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে এবারের কাউন্সিল নিয়ে বাড়তি আমেজ তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পুরোপুরি সাংগঠনিক মেজাজের একটি রাজনৈতিক দল। বিগত ৮ বছর ধরে আমরা তৃণমূল থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দলকে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি। এতে দলের কাউন্সিল ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যাওয়াটা স্বাভাবিক। ’