৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভূমিসংক্রান্ত যেকোনো সেবা পেতে মানুষকে এক হাজার টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এমনকি ঢাকার পার্শবর্তী থানাগুলোতে পঞ্চাশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘুষের লেনদেন হয় জমি নিবন্ধনে।

আজ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবি মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিহার রঞ্জন রায় ও শাম্মী লায়লা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমিবিষয়ক কাজে মানুষের ভোগান্তির মূল কারণ দীর্ঘসূত্রিতা। মূল দলিল তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এক-দেড় বছর দেরি করা হয়। এর পেছনে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র কাজ করছে। এ পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাব রেজিস্টার বদলি থেকে প্রতিটি খাত দুর্নীতির সাথে জড়িত।

ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র নিয়ন্ত্রণ করতে দুটি জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া উচিত উল্লেখ করে ড. ইফতেখার বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। কর্তৃপক্ষের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতির অংশীজনদের নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা, দুর্নীতিপরায়ণদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, সরকারের এখাতের রাজস্ব আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। দ্বিতীয়ত: প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে গুরুত্ব দেয়া। যদিও সরকার এই কার্যক্রম গ্রহণ করলেও অগ্রগতি নেই। এক্ষেত্রে ই-নিবন্ধনসহ পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাইজেশন করতে হবে। এটা সম্ভব হলে এই খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।