৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

অনেক কিছু বলার থাকলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে বহুকিছু হজম করে এগিয়ে যাচ্ছি বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জিয়া-এরশাদের ক্ষমতাদখল হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করায় তাদেরকে আর সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ রবিবার (০৮সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সদ্যপ্রয়াত বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোষে-গুণে মানুষ। আমাদের বলার অনেক কিছুই আছে। কারণ আমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, ছেলেমেয়েরা জানতে পারেনি আমি কোথায়। তারপরও দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে অনেক কিছু হজম করে এগিয়ে যাচ্ছি।

‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিরোধীদলের নেতা ছিলেন, আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া যেভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, এরশাদও একইভাবে ক্ষমতা দখল করেন। হাইকোর্ট তাদের এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এরপর তাদেরকে আর সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮২ সালে এরশাদ যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সেই ক্ষমতা দখলের সুযোগটা কিন্তু খালেদা জিয়াই করে দিয়েছিলেন। একারণে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়াকে শুধু দুটি বাড়িই নয়, নগদ ১০ লাখ টাকাসহ অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলেন জেনারেল এরশাদ। যে কারণে জিয়া হত্যার ব্যাপারে যে মামলা হয়েছিল চট্টগ্রামে, সে মামলা কিন্তু বিএনপি কখনো করেনি। বহু বছর পর ১৯৯৪ সালের দিকে এক সময়ে জেনারেল এরশাদকে তার স্বামী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন খালেদা জিয়া। এগুলো ইতিহাসের একটা অংশ ক্ষমতাটাকে তুলে দেয়া বা সুযোগ করে দেয়া। তবে এর বিরুদ্ধে আমরাই প্রতিবাদ করেছি। কারণ আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল প্রতিবাদ করেছিলাম, এজন্য আমরা চেয়েছিলাম গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এক সামরিক শাসকের ক্ষমতা থেকে আরেক সামরিক শাসকের ক্ষমতা আসুক এটা কখনো আমাদের জন্য কাম্য ছিল না।

আর পড়ুন:   প্রধানমন্ত্রী এখন রিয়াদে

তিনি আরো বলেন, আমি ফিরে আসার পর ৩২ নম্বর বাড়িটিতে জেনারেল জিয়া আমাকে ঢুকতেই দেননি। এটাও বাস্তবতা। প্রথমে মার্শাল ল’ জারি করে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এরপর নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে নেন। এই ক্ষমতা দখল প্রথমে জিয়াউর রহমান করেন। জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। এরপর জেনারেল এরশাদও নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। উচ্চআদালত এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। অবৈধ যখন ঘোষণা করেছেন তখন এ দুইজনের কেউ আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে কিন্তু থাকেন না। তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করাও হাইকোর্টের রায়ে বৈধ নয় বরং সেটা করা যায় না। কারণ একটা রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের ধারাটা অব্যাহত রাখার সুযোগ হয়েছে।

‘জেনারেল এরশাদ অমায়িক ছিলেন, মানুষের প্রতি দরদ ছিল। স্বাধীনতার পরপর সাভার স্মৃতিসৌধে জাতির পিতা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এই স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজ করেছেন এরশাদ। জিয়াউর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিরক্ষার জন্য তিনি কিছুই করেননি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।