২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে অপরিকল্পনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে এ আন্দোলন করছেন তারা।

আজ বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর)  সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে কয়েকজন শিক্ষকসহ জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, মেগাপ্রজেক্টের টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা, টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইকারীদের শাস্তি প্রদান ও মেগাপ্রজেক্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং মেগাপ্রজেক্টের বাকি স্থাপনার কাজ স্থগিত রেখে সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে মাস্টারপ্লান পুনর্বিন্যাস করা।

এদিকে আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ শুরু হলে দুই উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, প্রক্টর পৃথকভাবে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা বলেছি, আলোচনা শুধু আমাদের দাবির বিষয়েই হতে হবে।

তিনি জানান, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। একইভাবে আবার আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা হবে। আগামীকালের মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হলে আলোচনা করে আরো কঠিন কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, প্রো-ভিসি এবং রেজিস্ট্রার মহোদয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের কাছে গেছেন। আমিও তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবো। মাসের শুরুতে এভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখলে অনেক ক্ষতি।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি শেষে নতুন করে আরো দুদিন অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেও ভবন দুটিতে কোনো কর্তকর্তা-কর্মচারী প্রবেশ করতে না পারায় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।