৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‌ডেঙ্গু প‌রি‌স্থি‌তি মোকা‌বিলায় সরকারের পাশাপা‌শি জনগণকেও এ‌গিয়ে আসতে হবে। এ‌ডিস মশা নিধনে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃ‌ষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অতীতে ম্যালেরিয়া বা কলেরার প্রাদুর্ভাব যেভাবে কমে এসেছে তেমনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর প্রকোপও কমে আসবে বলে আশা করি।

ডেঙ্গু প‌রি‌স্থি‌তি মোকা‌বিলায় করণীয় নিয়ে শুক্রবার রাজধানীতে ডি‌বেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজ‌নে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্র‌তিযোগিতা অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি একথা ব‌লেন।

‘শুধু সরকারী প্র‌চেষ্টা নয় জনসচেতনতাই পারে ডেঙ্গু প্র‌তিরোধ কর‌তে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্র‌তিযোগিতায় সভাপ‌তিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহ‌মেদ চৌধুরী কিরণ।

বক্তব্যে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এবারে ডেঙ্গুর মাত্রা আমাদেরকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কেউই আগে অনুমান করতে পারেনি। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সফলতা-বিফলতার কথা না ভেবে আমরা বলতে চাই, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই সব জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। ঈদ পরবর্তীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি না হয়ে বরং অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা ছিল তাও ঘটেনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। তবে সরকারের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা খুব কঠিন কাজ নয়।

এ ছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা যাওয়া অস্বচ্ছল পরিবারের কেউ চাইলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহায়তা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন,  ‘ডেঙ্গু আজ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ম্যালাথিয়ন ছাড়াও এখন আমরা আরও কার্যকর ওষুধ খুঁজছি। শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই  হবে না তা যেনো কোনোভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় আমরা সে বিষয়টিও ভাবছি।এডিস মশা নিযন্ত্রণে শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হচ্ছে না, সরকারি অফিসগুলোও যাতে সঠিক দায়িত্ব পালন করে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা সফল না- এ কথা সঠিক নয়।’

আর পড়ুন:   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসেবের গড়মিল জনমনে প্রশ্ন উঠেছে আসলে কতজন মানুষ মারা গেছে। অস্বচ্ছল পরিবারের যে সকল মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের জন্য সরকারের উচিত নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায়  প্রতিটি বাসায়  গিয়ে ফুলের টব, একুরিয়াম, ফ্রীজ বা এয়ারকন্ডিশনের জমে থাকা পানি পরিস্কার করা সম্ভব নয়। নিজের বাসা বাড়ি ও আশেপাশের অপরিচ্ছন্ন জায়গা পরিস্কার রাখা প্রত্যেকটি নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব। এটি নাগরিক সচেতনতারই একটি অংশ। তাই ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান রাহী, সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জাহিদ রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।