৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মাত্র ৯ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের নয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর লেমুয়ায় একটি পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া ব্রিজের কাছে তিব্বতিয়া কলেজের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও আহতরা জানান, বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের আদমজি থেকে কক্সবাজারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রাইম প্লাস পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-৭৫৭৮) যাত্রী নিয়ে রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর মিরপুরে যায়। সেখান থেকে আরও কয়েকজনকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন এবং ঢাকায় নেয়ার পথে আরও একজন মারা যান।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের কোনাবাড়ীতে তিনটি বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ সহিদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ট্রাকচাপায় সিএনজি অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত ও চারজন আহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে আচমিতা ইউনিয়নের ভিটিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কটিয়াদী থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, কিশোরগঞ্জের চামড়াবন্দর থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ভৈরব যাচ্ছিল। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে ভিটিপাড়া এলাকায় পৌঁছলে আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিপরীতে দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজির চালকসহ সাত যাত্রী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে চারজনকে কটিয়াদী ও তিনজনকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া ভৈরবের অদূরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরা থানার মাহমুদাবাদ নামক স্থানে বাস খাদে পড়ে একজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ১২ যাত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আর পড়ুন:   ‘করোনা ভাইরাসের কারণে  সফর বাতিল করেননি অতিথিরা’

জানা গেছে ভৈরব-নরসিংদীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস (নাম্বার-ঢাকা-মেট্রো-১১-২৭৩৯) ওই স্থানে পৌঁছলে বিপরীতগামী একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে ব্রেক ফেল করে খাদে পড়ে যায়। এতে হোসনে আরা বেগম (৫৮) নামে এক যাত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বরিশাল থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা তুহিন পরিবহন (রাজ-মেট্রো-ব-১১-০০৩২) ভাঙ্গা বিশ্বরোড অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রাজু এন্টারপ্রাইজের (কুমিল্লা জ-০৪-০০৩২) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজু এন্টারপ্রাইজের চালক রওশন ফকির ও এক যাত্রী মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ৫০ জন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর ও ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ভোলায় মাহিন্দ্রচাপায় পারভেজ (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকার ব্যারিস্টার কাঁচারিবাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পারভেজ ভোলার সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ব্যারিস্টার কাঁচারি এলাকার মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে শিশুটি তার বাড়ি থেকে বিস্কুট কেনার জন্য বাজারে আসে। এ সময় যাত্রীবাহী একটি মাহিন্দ্র ইলিশা ফেরিঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলা আসছিল। বাজারে অন্য একটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে শিশুটিকে চাপা দেয় মাহিন্দ্রটি। এতে শিশুটি আহত হলে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় ইসতিয়াক আহমেদ (১৭) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সখীপুর-গোড়াই সড়কের বোয়ালী উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইসতিয়াক আহমেদ পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের শাকিল আজাদের ছেলে। তিনি সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

সখীপুর থানা পুলিশের ওসি আমির হোসেন জানান, সকালে ইসতিয়াক আহমেদ মোটরসাইকেলে সখীপুর থেকে নলুয়া যাওয়ার সময় বোয়ালী উত্তরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় তুহিন মোল্লা (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী সাথী বেগম (২৫)।

আর পড়ুন:   ভূমি দলিল নিবন্ধনে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে: টিআইবি

দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তুহিন সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের আশরাফ মোল্লার ছেলে।

কাশিয়ানী থানা পুলিশের এসআই প্রকাশ সরকার জানান, কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া থেকে তুহিন তার স্ত্রী সাথীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে গোপালপুর এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তুহিন নিহত এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের ফুলপুর উপজেলার ইমাদপুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শেরপুরের কালিবাড়ী চেঙ্গুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে জায়েদ (৬) এবং শম্ভুগঞ্জ এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৪৫)।

পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোনার বাংলা পরিবহনের একটি বাস ফুলপুরের ইমাদপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা শেরপুরগামী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই জায়েদ নামে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ইসলামাবাদ শাহ ফকির বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী হানিফ বাসের চাপায় একবৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ইজিবাইক (টমটম) চালকসহ আরও একব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নিহত মোহাম্মদ কালু (৬২) কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাপিতখালী গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করেছে ঈদগাঁও পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো. আছাদুজ্জামান জানান, নিহত কালুসহ আরও একব্যক্তি ঈদগাঁও বাজারে যেতে ইজিবাইক (টমটমে) উঠেছিল। এ সময় কক্সবাজারমুখী হানিফ পরিবহনের বাসটি (ঢাকামেট্রো-ব-১১-১২৪৭) টমটমে ওঠতে যাওয়া কালুকে ধাক্কা দিলে টমটমসহ তিনি উল্টে যান। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয় এবং টমটম চালকসহ অপর যাত্রী গুরুতর আহত হন।

তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই লিটনুর রহমান জয় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।