১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হলো হজ। সে হজ নিয়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে রয়েছে সৌদিআরব ও কাতার গত প্রায় তিন বছর ধরে। এবারো কাতার অভিযোগ করছে তাদের দেশের মুসলমানদের হজ পালনে বাঁধা দিচ্ছে সৌদিআরব। আবার সৌদিআরব অভিযোগ করছে কাতার কাতারীদের হজ পালনে সৌদিআরবে যেতে বাঁধা দিচ্ছে। আমরা কার কথা বিশ্বাস করবো !

সমস্যার শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে, যখন সৌদিআরব কাতারকে একঘরে করতে তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করে। সে সময় তাদের সাথে যোগ দেয় বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারপর তাদের সাথে যোগ দেয় মিসর, সেনেগাল, মালদ্বীপসহ আরো কিছু মুসলিম দেশ।

সেটা যেমন তেমন অবরোধ নয়। সমুদ্র, সড়ক ও আকাশ পথে কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদিআরব। বন্ধ করা হয় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কাতারের সাথে। ফলে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়ে দেশটির অর্থনীতি। অবশ্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে কাতার বেশ ভালোভাবেই সে সংকট মোকাবেলা করেছে। কিন্তু হজ নিয়ে এ সংকটে মানুষের মন ভেংগে যাবে। কারণ মানুষ ধর্মীয় স্বস্তি চায়। মানুষ অর্থবিত্ত সমৃদ্ধিতে শান্তি পাবেনা যদি তারা ধর্মীয় তৃপ্তি না পায়। কারণ মানুষের বিশ্বাসের তৃষ্ণা আছে। মানুষ প্রাকৃতিকভাবে বিশ্বাসী সৃষ্টি। ধর্মে কিংবা ধর্মীয় লৌকিকতায় যায়-ই থাকুকনা কেন, মানুষ বিশ্বাসে থাকতে চায়, মানুষ বিশ্বাস করতে চায়।

চলতি বছরে সৌদি আরব প্রাক্কলন করেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজ পালনের জন্য প্রায় ১৭ লাখ এবং ওমরাহর জন্য ৮০ লাখ মানুষ সৌদিতে যেতে পারেন। কিন্তু কাতার ঝামেলা পাকালে অর্থনীতির এই সেক্টরে সৌদি আরবের ক্ষতি হতে পারে। কাতার সে লক্ষ্যে সৌদি আরবের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। আমরা সঙ্কিত ধর্ম নিয়ে আরবদের এই অবনমনে। আমরা চাই, আরবরা আরো সহনশীল হোক।

লেখক-গোলাম সারোয়ার: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।