৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদ্রাসাছাত্র আবির হোসাইনের মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর  বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫জুলাই)  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার মাত্র ১০০ গজ দূরের একটি পুকুর থেকে আবিরের মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

                                                                             মাদ্রাসাছাত্র আবির হোসাইন

এর আগে বুধবার সকালে মাদ্রাসার নিকটবর্তী ইটভাটার পাশ থেকে ওই ছাত্রের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবির হোসাইন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আলী হোসেনের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ  জানান, বুধবার রাতেই খুলনা থেকে একটি বিশেষ ডুবুরি দল আসে চুয়াডাঙ্গায়। তাদের সহযোগিতায় জেলা পুলিশের একটি দল ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবিরের মাথাটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে মাদ্রাসার নিকটবর্তী মশিউর রহমানের পুকুরের উত্তর এলাকা থেকে মাথাটি উদ্ধার হয়।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা নুরানি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাস ছয়েক আগে আবির হোসেন (১১) ভর্তি হয়।

ওই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। মঙ্গলবার এশার নামাজের সময় সে নিখোঁজ হয়। বুধবার সকালে মাদ্রাসার নিকটবর্তী আমবাগান থেকে মাথাবিহীন আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর দিন বৃহস্পতিবার উদ্ধার হলো আবিরের মাথা।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান দেশ  বলেন, ‘মাদ্রাসাছাত্রের হত্যার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ের গুজবের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। সুকৌশলে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতেই নিহত ওই ছাত্রের মাথা কেটে গুম করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জন্য ওই ছাত্রের মাথা কেটে নিয়ে গেছে বলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার চালানো হয়েছে। নেপথ্যে কাজ করেছে চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী। তাদের আমরা আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছি।’

আর পড়ুন:   নিউজিল্যান্ডে ১ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় দেশব্যাপী লকডাউন

তিনি জানান, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, নিহত ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে ওই ছাত্রকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এ বিষয়টি উঠে এসেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটককৃতদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামে কয়েক বছর আগে স্থানীয় বিত্তশালীদের আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয় একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা। মাদ্রাসার নাম দেওয়া হয় নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। বর্তমানে মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত রয়েছে ৭১ শিক্ষার্থী। চুয়াডাঙ্গা জেলা বাদেও আশপাশ জেলাগুলো থেকে অধ্যয়নরত আছে বেশকিছু ছাত্র।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ বলেন, ‘দিনভর পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করার পর আমাদের হাতে বেশকিছু তথ্য আসে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে তথ্য পাওয়া যায়, নিহত মাদ্রাসাছাত্র আবিরের মলদ্বারে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ওই ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। একই সঙ্গে সুকৌশলে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নিহত ওই ছাত্রের মাথা কেটে গুম করা হয়েছে।’