৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গুজব মোকাবেলায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি গুজব ছড়ানোয় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রামের দু’ নম্বর গেট এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেসে এসব কথা বলেন তিনি। এছাড়া গণধোলাইয়ের ভিডিও ধারণ ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান নুরেআলম মিনা।

সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগার গুজব ছড়িয়ে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এর সাথে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে দাবি করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার এসব গুজবের মূল উৎপত্তিস্থল খুঁজে পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হেড কোয়ার্টার থেকে আমাদের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া গুজব মোকাবেলায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, কমিউনিটি পুলিশিং সভা, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে স্কুল-মাদ্রাসায় প্রচার, এলাকায় মাইকিং ও মসজিদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে এসব প্রচারণার পরেও যারা গুজব ছড়াতে এবং গুজবের দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশ কাজে লাগিয়ে গণধোলাইয়ের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব। গণধোলায়ের ঘটনায় জড়িত সকলকে এমনকি যারা সেসব ঘটনার ভিডিও করছে, সেসব ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে এখন পর্যন্ত ৫টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৫টি ঘটনার ৩টিতেই মানসিক ভারসাম্যহীন লোকদের বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে৷ বাকি দুটি ঘটনা ছিল একেবারেই পরিকল্পিত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) একেএম এমরান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) প্রমুখ।