৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মামলা আতংকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজ ঘর-এলাকা ছেড়ে ভিন্ন এলাকায় গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউ মামলার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না। জুলুম-নির্যাতন সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো।

শনিবার (২০ জুলাই) নগরের কাজির দেউড়ীর নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ৩০ থেকে ৪০ বছর দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনও ৩৬টি মামলা দেয়া আছে। বিএনপির এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। তার ব্লাড প্রেশার ও সুগার ওঠানামা করছে। কিন্তু বেগম জিয়ার প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা তাকে দেয়া হচ্ছে না। অতি দ্রুত মুক্তি দিয়ে তার প্রাপ্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের হাতে এখন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ। বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, আইন বিভাগসহ সাংবিধানিক সব বিভাগ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই সরকার চাইলেই বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের অনেক জায়গায় বন্যা হচ্ছে। লাখো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে সরকারের মাথাব্যথা নেই। বন্যাপীড়িতদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা। তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে এখন মৌলিক অধিকারও হরণ করছে।

নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ডাক আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, দেশের এখন প্রধান সমস্যা রোহিঙ্গা। এই রোহিঙ্গা সমস্যা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের ফেরত পাঠানোর কোনো উদ্যোগ না নিয়ে, তাদের স্থায়ী বসবাস করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। এই সরকার কূটনৈতিকভাবে পুরোপুরি ব্যর্থ।

আর পড়ুন:   ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আবারও গণতন্ত্র হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চায়। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও ভয় পাচ্ছে সরকার। এতো হামলা-মামলা করেও বিএনপির প্রতি জনগণের জোয়ার থামাতে পারেনি। খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। তিনি যেদিন মুক্তি পাবেন, ওইদিন আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিন।

তিনি বলেন, এই সরকার কোথাও সফল নয়। এমনকি চাঁদ দেখা নিয়েও বিতর্ক তৈরি করেছে। সন্ধ্যায় বলে ঈদের চাঁদ দেখা যায়নি, রাত ১১টায় আবার বলছে ঈদের চাঁদ দেখা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার মশা মারতে পারে না,  কিন্তু রাতের অন্ধকারে ঠিকই মানুষ মারতে পারে। এমন সরকারের কাছে খালেদার মুক্তি চেয়ে কী হবে? এটা অবৈধ সংসদ, ভেজাল সংসদ।  ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। এই জন্য শেখ হাসিনাকে চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হবে।

সমাবেশ ঘিরে সতর্ক ছিলো পুলিশ। ‘আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইব না। সরকারের কাছে মুক্তি চেয়ে লাভ নেই। আইনে আর মুক্ত করা সম্ভব নয়, আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে’ বলেন গয়েশ্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা জ্বলে-পুড়ে এখন খাটি সোনায় পরিণত হয়েছে। আমাদের আর পুড়িয়ে লাভ নেই। আবারও পুড়ালে খাটি সোনা, খাটি সোনায় থাকবে। বিএনপি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। যে দেশে একটি অবৈধ সংসদ থাকে, ওই দেশে সাংবিধানিক অন্যান্য সংস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, খালেদা জিয়া কোনো ছোট দলের নেত্রী নয়। তিনি দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। বেগম জিয়া দেশের মানুষের অধিকারের কথা বলার কারণে আজ কারাগারে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ভাটা পড়েছে। এ জন্য তারা দেশে ফ্যাসিজম কায়েম করতে চায়।

আর পড়ুন:   হাটহাজারীতে আবারো ভেজাল ঘি তৈরির কারখানার সন্ধানলাভ

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।