৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক থাকা নিয়ে অধ্যাপক ফারুকের পরীক্ষায় যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন। গবেষকেরা বলছেন, বাজারে থাকা অ্যান্টিবায়োটিকের ৮০ ভাগই ব্যবহার হচ্ছে প্রাণী ও মাছে। এতে মানবদেহে অকার্যকর হয়ে পড়বে অ্যান্টিবায়োটিক। ছোট সংক্রমণ থেকেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে রোগীর।

পাস্তুরিত দুধে ডিটারজেন্ট-অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ পাওয়ার দাবি করে গবেষণার ফল প্রকাশ করেন বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভান্স রিসার্চ সেন্টারের ১৯ প্যারামিটারে দুধের মান পরীক্ষা করেন ফারুকসহ আট গবেষক।

এর পর পরই উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসহ নানা পর্যায় থেকে এ পরীক্ষার গ্রহযোগ্যতা নিয়ে উঠে প্রশ্ন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন জানিয়েছেন, যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।

গবেষকরা বলছেন, বাজারে থাকা অ্যান্টিবায়োটিকের ৮০ ভাগই ব্যবহার হচ্ছে প্রাণী ও মাছে। এতে দুধসহ অন্যান্য খাবারের মধ্য দিয়ে মানবদেহে যাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। কমছে পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা। বিরূপ প্রভাব পড়ছে হার্ট, লিভার ও কিডনিতে।

এফডিএ-এর মিল্ক অর্ডিনেন্স ২০০৯ অনুযায়ী, দুধে যে কোনো মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায় মানবদেহ। এক পর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে অ্যান্টিবায়োটিক।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় পাস্তুরিত দুধের নমুনা চার গবেষণাগারে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেসব প্রতিবেদন দেখেই বাজারে থাকা ৭ কোম্পানির দুধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ না হলে ত্রিশ বছরের মধ্যে ক্যান্সার নয় অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে মারা যাবে সবচেয়ে বেশি মানুষ।

পাস্তুরিত দুধে ৫ অ্যান্টিবায়োটিক হলো; এজিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন এনরোফ্লক্সাসিন, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন।