৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন পুলিশের বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। প্রথম শ্রেণির বন্দি হওয়ায় কারাগারে ডিভিশনও পেয়েছেন তিনি। তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিভিশন সেল ‘চম্পাকলী’তে রাখা হয়েছে। সেলে তিনি টিভি দেখা ও পত্রিকাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন। গতকাল বুধবার থেকে তিনি ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন তাকে সেসব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতেই ডিভিশন দেয়ার কাগজ কারাগারে এসে পৌঁছায়।

এদিকে কারাগার সূত্র জানায়, মিজানের সেলে আসবাবপত্র হিসেবে একটা টেবিল, একটা খাট, চাদর ও একটা চেয়ার পেয়েছেন। এছাড়া পত্রিকা, বই, একটি সাধারণ টেলিভিশন ও রেডিও আছে। এছাড়া হাজতি সাবান, টুথপেস্ট, আয়না, বালিশ, কম্বল, তোষক, চিরুনি, তেল, পায়ের স্যান্ডেল, তোয়ালেও তিনি পাবেন। তবে তিনি প্রথম দিন সেলের ভেতর পত্রিকা পড়ে এবং টেলিভিশন দেখে সময় পার করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় মিজানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। উল্লেখ্য, জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদ মিজান ও তার স্বজনদের নামে পেয়েছে দুদক।

গত বছর নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন ডিআইজি মিজান। এরপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। এখন নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়াসহ একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত এ ডিআইজি। নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সত্যতা পায় পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি।

তারই সূত্র ধরে মিজানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত চলার সময়েই দুদকের এক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ দেয়ার কথা নিজেই ফাঁস করেন। তারপর ওই ঘটনায় নিজেও ফেঁসে যান। সব মিলিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ফলে গ্রেফতার হয়ে এখন জেলবন্দি জীবনে পা রাখলেন একসময়ের প্রভাবশালী ডিআইজি!