১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে খালেদা জিয়ার হাঁটুর ব্যথা, পায়ে ব্যথা ও গায়ে জ্বর এবং তারেক জিয়ার মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে। তাদের সংবাদ সম্মেলনে প্রথম বাক্যই খালেদা জিয়ার এই হয়েছে, সেই হয়েছে। এগুলো থেকে বেরিয়ে গঠনমূলক রাজনীতি করুন।

রবিবার (২৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ মানে সংগ্রামের নাম, আওয়ামী লীগ মানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নাম, আওয়ামী লীগ মানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের নাম। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ৭০ বছর আগে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর, এ দল গণমানুষের একটি প্রিয় দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানা মানে বাংলাদেশের ইতিহাস জানা। নতুন প্রজন্মকে বলবো আওয়ামী লীগের ইতিহাস পড়ার জন্য, বিশ্লেষণ করার জন্য।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ দেশ অনেক আগেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীরা তা চায়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধু না থাকলে দেশ থেমে যাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা হতে দেননি। তিনি বাংলাদেশকে অনুন্নত থেকে স্বল্পোন্নত দেশে নিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, যখন রাজনীতি বুর্জোয়া আর সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে কুক্ষিগত ছিল তখন আওয়ামী লীগ দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ত্যাগ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে কারাবারণ এবং খুন করা হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেননি তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বহু বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের চেয়ে উন্নতের কাতারে থাকতো।

আর পড়ুন:   দাবিআদায়ে নৌশ্রমিকদের কর্মবিরতি
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

দলের অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে হাছান মাহমুদ বলেন, এখন সবাই নৌকায় ওঠতে চায়। নৌকায় যাত্রী বেশি হলে ডুবে যায়। সবাইকে নৌকার নেয়ার প্রয়োজন নেই। পর পর তৃতীয় বারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে দলে অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করেছে। সরকারের এত উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে এরা প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। দলের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এসব অনুপ্রেকেশকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। নেতাকর্মীদের বিনয়ী হতে হবে, কোনো ঔদ্ধ্যর্ত আচরণ করা যাবে না।

তথ্যমন্ত্রী এসময় ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সকলের সহযোহিতা ও পরামর্শ চান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিতত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি মো. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষাউপমন্ত্রী শিক্ষাউপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল,মহানগরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়ের আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি নঈম উদ্দিন আহমেদ, ‍যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।