৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুইমাস পরপর বাজারের মৌসুমি ফলমূল পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটকে (বিএসটিআই) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ফলমূলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার রোধে পরীক্ষা অব্যাহত রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার রোধসংক্রান্ত রিটের শুনানিতে রবিবার (২৩ জুন) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এছাড়াও স্থলবন্দরগুলো থেকে যেন কেমিক্যাল মেশানো ফল দেশে ঢুকতে পারে সেজন্য দুই মাসের মধ্যে বন্দরগুলোতে কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট স্থাপন করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল আলম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শুনানিতে ফরমালিন পরীক্ষায় আধুনিক যন্ত্র কেনার বিষয়টি উঠে আসে। আদালত বলেন, ‘দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এজন্য খাদ্যপণ্য ভেজালমুক্ত রাখতে হবে। সরকার যেকোনও কিছুতে অর্থ বরাদ্দে কোনও কার্পণ্য করছে না, কিন্তু সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কাজ। ফলমূলে কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে তাদের নিয়োগ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। মোবাইল কোর্ট জরিমানা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীদের। কিন্তু কেমিক্যালের ব্যবহার রোধ করা যাচ্ছে না। এজন্য বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হবে। যারা কেমিক্যাল আমদানি করে তাদের ধরতে হবে।’

এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘প্রয়োজনে সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করবে। কিন্তু ফল পাকাতে যে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার হয়, সেটা রোধ করতে হবে।’

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসান বলেন, ‘বাজারে যেসব ফল রয়েছে সেসব ফলে ফরমালিন ব্যবহার করা হয় বলে তা কাজে দেয় না। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একটি প্রতিবেদন রয়েছে। আর আমরা সারাবছরই সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে ফলমূল পরীক্ষা করে থাকি।’

আর পড়ুন:   ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মত‍্যাগেই বাঙালি ও বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিষ্ময়’

এরপর আদালত দুই মাস পরপর বাজারে ওঠা মৌসুমি ফলমূল পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফলমূলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার রোধে পরীক্ষা অব্যাহত রাখতেও নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া স্থলবন্দরগুলো থেকে যেন কেমিক্যাল মেশানো ফল দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য দুই মাসের মধ্যে সরকারকে বন্দরগুলোতে কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট স্থাপন করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে মনজিল মোরসেদের এক সম্পূরক আবেদনের শুনানিতে গত ২০ মে রাজধানীসহ সারাদেশের ফলের বাজার ও আড়তগুলোতে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে, তা তদারকির জন্য মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় মামলাটি চলমান রাখেন হাইকোর্ট।