১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বর্ষামৌসুম শুরুর আগেই মে মাসে সারা দেশে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় দুই হাজার মিলিমিটার। জুনের প্রথম ১০ দিনে পাঁচ হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ডকে প্রকৃতির অস্বাভাবিক আচরণ বলছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে দেশের ২৪টি পয়েন্টে প্রতিদিন বাড়ছে নদীর পানি। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ে স্বল্প মেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মে থেকে জুনের মধ্যভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম লঘুচাপের প্রভাবে প্রায়ই হচ্ছে বৃষ্টি। জুনের প্রথম সপ্তাহে বর্ষা মৌসুম শুরুর কথা থাকলেও মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হতে সময় লাগবে আরো কয়েক দিন। এ মাসে সারা দেশে স্বাভাবিক আঠার হাজার নয়শ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিনে সাড়ে তিন হাজার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ মাসেই টানা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হবে অন্তত দুটি নিম্নচাপ।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, জুন মাসে সাধারণত ১৮ হাজার ৯শ মিলিমাটার বৃষ্টি হয়। এবার প্রথমেই চারহাজার দুইশ উনআশি মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে- যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী। তবে আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে বৃষ্টি আরও বাড়বে।

মেঘনা ,গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদনদীর পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। পাশাপাশি আসাম-মেঘালয়ে হচ্ছে ভারী বৃষ্টি। উজানের ঢলে বাড়ছে মনু, জাদুকাটা, সুরমা খোয়াই, গোয়াইন নদীর পানি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামন ভূঁইয়া বলেন, অগ্রিম কোনো বন্যা জুন মাসে নেই। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে অনেক নদীর পানি বিপদসীমার কাছে চলে যাবে। তবে জুলাই মাসে স্বাভাবিক ও অতি বৃষ্টি হলে ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা হতে পারে।

গঙ্গার পানি আরো বাড়লে জুলাইয়ের শুরুতে বন্যার আশঙ্কা করছে পূর্বাভাস কেন্দ্র। পাশপাশি, পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা রয়েছে।