৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোহাম্মদ ইউসুফ *

আজ ফেসবুক ওয়ালে দুঃসংবাদটি দেখে যেন আকাশ থেকে পড়লাম।ঘনিষ্ঠজনের মৃত্যুসংবাদ পেলে আসলেই এমনটাই হয়।এভাবে হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়ে এ মানবতাবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষটি শেষনিঃশ্বাস ফেলবেন-তা ভাবতেই পারিনি।সমাজবদলের ভাবনা যাকে সর্বদা তাড়িত করতো, খেটেখাওয়া মানুষের সেই অকৃত্রিম বন্ধু,সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের ভূতপূর্ব চেয়ারম্যান, জাসদ নেতা আ ফ ম মফিজুর রহমান(৫৮) শুক্রবার( ৭জুন) বেলা বারোটায় ডায়াবেটিস রোগে (চিনিশূন্যতা) আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজনীতির মঞ্চ ভিন্ন হলেও চিন্তা-চেতনার অভিন্নতার কারণে মফিজভাইয়ের সাথে আমার একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল।স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামসহ বিভিন্নভাবে তাঁর সাথে আমার তিনদশকেরও বেশিসময়ের সম্পর্ক।মুঠোফোনে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হরহামেশাই তাঁর সাথে আলাপ হতো।আমার সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণীতে ১৭বছরধরে তিনি লিখে আসছেন।অসাম্প্রদায়িক ধ্যানধারণা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এ ক্ষুরধার লেখক সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরাজমান নানান অসংগতি, অনাচার, ধর্মীয় কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি,অনিয়ম-দুর্নীতি ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আজীবন তিনি কলম চালিয়েছেন।জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় মুদ্রিত তাঁর সামাজিক মূল্যবোধ ও জীবনধর্মী প্রবন্ধগুলো পাঠকদের বেশ নজর কাটতো। বেশ কয়েকটি গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যতিক্রমধর্মী লেখক মফিজুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।জাসদ-ছাত্রলীগের তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।রাজনীতিতে তাঁর অপরিসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষা রয়েছে।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসদ এর সহসভাপতি ছিলেন। প্রয়াত মফিজুর রহমান মৃত্যুকালে স্ত্রী,এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজনসহ বহু রাজনৈতিক সতীর্থ ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।আজ বাদএশা কুমিরা’র কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। গরীব-দুঃখী- মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু মফিজুর রহমানের অকালমৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।