১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সকাল থেকে বিভিন্নস্থানে পরিবহন শ্রমিকদের বাধার কারণে কোনো যানবাহক চলছেনা।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন পুরোপুরি ফাঁকা। পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের দাবিতে রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার ‘কর্মবিরতি’ পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

কিন্তু কর্মবিরতির নামে কোনো কোনোস্থানে নৈরাজ্য চালাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। নিজেরা গণপরিবহন চালানো বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পয়েন্টে পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে তারা থামিয়ে দিচ্ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ যাত্রীদের চলাচলের বিকল্প বাহনও। এজন্য দিনের শুরুতেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা।

ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া রাস্তায় কোনো গণপরিবহনেরই দেখা মিলছে না। মাঝেমধ্যে কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশার দেখা মিললেও তারা দাবি করছে ‘গলাকাটা’ ভাড়া। আবার এই ভাড়ায় গাড়িতে চেপে বসলেও পরিবহন শ্রমিকরা তাদের নামিয়ে দিচ্ছেন।

পরিবহন না পেয়ে মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের পড়তে হয়েছে বেশি ভোগান্তিতে।

ভোক্তভূগি যাত্রীরা বলছেন, সরকার আইন করেছে যেন শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে সবকিছু। কিন্তু তারা (পরিবহন মালিক-শ্রমিক) পেয়েছেন মামা বাড়ির আবদার, অন্যায়ও করবেন, আইনও মানবেন না। সরকারের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া।

রাজধানীর রাস্তায় যেমন চলছে না যানবাহন, তেমনি ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছেড়েও যেতে পারছে না, ঢুকতেও পারছে না ঢাকায়।শনিবার (২৭ অক্টোবর) শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক উছমান আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮’ পাস হয়েছে। এ আইনে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ও পরিপন্থী উভয় ধারা রয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন পাস করা হয়েছে। আইনে সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় অপরাধী হয়ে ফাঁসির ঝুঁকি রয়েছে। এমনই অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পেশায় দায়িত্ব পালন করা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো আমাদের সামনে খোলা নেই।

আর পড়ুন:   পরিবহন ধর্মঘটে আর্থিক ক্ষতিতে পোশাক রপ্তানিকারকরা - বিজিএমইএ

এ আইনের সংশোধন ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে রোববার সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয়া হয় ।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও চলছেনা কোনো যানরবাহন।নগরবাসীকে নির্ভর করতে হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ওপর। বাস না পেয়ে অফিসগামী যাত্রী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন এলাকার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে । শহরের বিভিন্ন এলকায় পরিবহন শ্রমিকরা অন্য যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। অটোরিকশাতে নেয়া হচ্ছে অত্যধিক ভাড়া।

মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ৮ দফা : সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান, সড়ক দুর্ঘটনার জটিলতর মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির স্থলে পঞ্চম শ্রেণি করা, কাগজপত্র চেকিং এর নামে সড়কে পুলিশের অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা, ওয়েট স্কেলে জরিমানার পরিমাণ কমানো ও কারাদণ্ডের বিধান বাতিল প্রভৃতি