৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শতশত প্রতিযোগীকে হারিয়ে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট মাথায় পড়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। দ্বিতীয় হয়েছেন ‌নিশাত মাওয়া সালওয়া ও তৃতীয় হয়েছেন না‌জিবা বুশরা।

অন্তর শোবিজ রাজধানী ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেন সিটি বসুন্ধরার রাজদর্শন হলে রবিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

এবারের আসরে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেত্রী তারিন, মডেল ও অভিনেতা খালেদ সুজন, মডেল ইমি, ব্যরিস্টার ফারাবি।

ফাইনালের আইকন বিচারক হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ এবং আনিসুল ইসলাম হিরু। এই তিনজন তিন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন।

অন্তর শোবিজ জানায়, এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ ১০ প্রতিযোগী ছিলেন। এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর মাথায়। ফাইনালে প্রথম স্থান অধিকারী চীনে মূল পর্বে যোগদানের উদ্দেশে ৭ ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন।নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় ঐশী। অনেকেই জানতে চাইছেন কে এই ঐশী? সেরা বিজয়ী নির্বাচিত হবার পর মিডিয়াকে আলাপে ঐশী জানালেন তার পরিবার-পরিচিতির অনেক কথা।

জানালেন, কাকতালীয়ভাবেই এসেছেন এই প্রতিযোগিতায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের ঐশী এইচএসসি শেষ করে জুলাই মাসে ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করার জন্য। স্বপ্ন, ভালো কোথাও ভর্তি হয়ে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করা। শুরু করেছিলেন আইএলটিএস কোচিংও।

আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন ঐশী। সাদামাটা একটা জীবন। হঠাৎ-ই শুনলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর আবেদন চলছে। ছেলেবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্যের জন্য অনেক প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে কৌতূহল মেটাতেই নাম লিখিয়েছিলেন এ প্রতিযোগিতায়। সময়ের স্রোতে বরিশালের পিরোজপুরের মাটিভাঙা এলাকার ঐশী এখন বিশ্ব সুন্দরীর আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ঐশী  বললেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। যারা সেরা দশে ছিলেন সবাই যোগ্য। তাদের মধ্য থেকে সেরা হিসেবে নিজের নাম শুনতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন মূল প্রতিযোগিতাতেও চমক দেখাতে পারি। এখনও কিছু গ্রুমিং বাকি আছে। এর মধ্যে নিজেকে আরও নিখুঁত করে নেয়ার সুযোগ পাবো আমি।’

আর পড়ুন:   ফলের আগেই আগামী পাঁচ বছরের কাজের নকশা স্থির করলেন মোদী

আবেগতাড়িত ঐশী আরও বলেন, ‘বরিশালের একটি মফস্বলের মেয়ে হিসেবে এই সাফল্য আমার কাছে অনেক বড় স্বপ্নজয়ের। অনেক বড় দায়িত্বও আমার কাঁধে এসেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সৌন্দর্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আমি, এটা ভাবতে ভালো লাগছে। আশা করছি, নিজের দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মর্যাদার সঙ্গেই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারবো।’

একনজরে ঐশী

জন্ম : বরিশালের পিরোজপুরে।
জন্ম তারিখ : ২৭ আগস্ট।
বাবা : আব্দুল হাই, বিশিষ্ট সমাজসেবী।
মা : আফরোজা হোসনে আরা, স্কুল শিক্ষিকা।
ভাই-বোন : দুই বোন। বড় বোন শশী।
শিক্ষা : চলতি বছরই এইচএসসি পাস করেছেন মাটিভাঙা ডিগ্রি কলেজ থেকে।
প্রিয় অভ্যাস : বই পড়া ও গান শোনা।
প্রিয় লেখক : হুমায়ূন আহমেদ।
প্রিয় বই : হুমায়ূন আহমেদের সব সাহিত্যই ভালো লাগে। হিমু ও মিসির আলী সিরিজের বইগুলো বেশি ভালো লাগে।
প্রিয় অভিনেতা : রাজ্জাকের অভিনয় তার খুব ভালো লাগে। বর্তমানে মাঝে মাঝে শাকিব খানের ছবি দেখেন।
প্রিয় অভিনেত্রী : শাবানা ও নুসরাত ফারিয়া।
প্রিয় শিল্পী : মিফতাহ জামান।
প্রিয় খাবার : ভাত, বাইম মাছ, আলুর যে কোনো তরকারি।
প্রিয় রঙ : সবুজ।
প্রিয় পোশাক : শাড়ি।