৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ করা হবে। এতে যোগ দেবেন ‘জাতীয় নেতারা’। এছাড়া, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির দাবিও জানানো হয়েছে সমাবেশে।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করার সময় এ সমাবেশের ঘোষণা দেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

সম্প্রতি বিকল্প ধারার সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ জোটে এতোদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির উপস্থিতি দেখা না গেলেও শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে স্থায়ী কমিটির বেশ ক’জন সদস্যসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে যোগ দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ড. কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্যও দেন ফখরুল।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে পাঠ করা ঘোষণাপত্রে শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি যে, সরকার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তফলিস ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেবে।’

‘ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য, ব্যহত ও অকার্যকর করে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না।’

আর পড়ুন:   আহমদ কায়কাউস  নতুন মুখ্য সচিব

এসব গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, শ্রেণি-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কমিটি গঠন করুন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেবল একটি দল বা জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করে, অপর একটি দল বা জোটকে ক্ষমতাসীন করা আমাদের জোটের লক্ষ্য নয়। জাতীয় ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য হবে-সংবিধান অনুযায়ী সকলের জন্য সুযোগের সমতা, কল্যাণমুখী অর্থনীতি এবং জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের যুগোপযোগী সংস্কার করা।’

সবশেষে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে সভা–সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, শিগগির ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠন করা হবে।

সমাবেশে ফখরুল ছাড়াও বক্তব্য দেন ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

আর পড়ুন:   অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি বৃষ্টি আর যানজটে