১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

লাসিথ মালিঙ্গার দুর্দান্ত বোলিংয়ে কেঁপে উঠেছিল বাংলাদেশএশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে প্রথম ওভারেই রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিলপ্রাথমিক সেই ধাক্কা সামাল দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম মোহাম্মদ মিঠুন১৩১ রানের এই জুটি ভেঙে ফের আঘাত হেনেছেন মালিঙ্গানতুন নামা মাহমুদউল্লাহও সাজঘরে ফিরেছেন রানে

অবশ্য দুজনেই জীবন পেয়েছেন লঙ্কান ফিল্ডারদের অসতর্কতায়। মিঠুন দুইবার জীবন পেয়ে তার সদ্ব্যবহার করেছেন ঠিকই। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। অপরপ্রান্তে থাকা মুশফিক তুলে নিয়েছেন ৩০তম ফিফটি।

ধীরে ধীরে লঙ্কানদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই জুটি। নতুন করে আক্রমণে লাসিথ মালিঙ্গা আসলে বিদায় করেন মিঠুনকে। অথচ এই মিঠুনকেই ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় ফেরানো যাচ্ছিল না। ৬৩ রানে ব্যাট করতে থাকা মিঠুন লিডিং এজ হয়ে বল বাতাসে উঠিয়ে দিলে ক্যাচ নেন উইকেট কিপার পেরেরা। পরের ওভারে নতুন নামা মাহমুদউল্লাহকে বিদায় করেন আপোনসো। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে বিদায় করেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। মোসাদ্দেক হোসেন নামলেও মালিঙ্গার বলে ছিলেন ব্যর্থ। ফিরে গেছেন ১ রানে। বাংলাদেশের স্কোর ২৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪২ রান। মুশফিক ব্যাট করছেন ৬৯ রানে।  
শুরুটা অবশ্য ভয় জাগানিয়া ছিল বাংলাদেশের। ক্যারিবিয়ান সফরে টি-টোয়েন্টিতে আলো ছড়িয়েছিলেন লিটন দাস। এশিয়া কাপে এনামুলের বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। শুরুতে খেলতে নামলেও ব্যর্থতাই সঙ্গী ছিল লিটনের। লঙ্কান দলে দীর্ঘ দিন পর আসা টো ক্রাশার মালিঙ্গা কাঁপিয়ে দিয়েছেন টপ অর্ডার। লিটনকে প্রথম স্লিপে তালুবন্দী করিয়ে আক্রমণের শুরু।

পরের বলে সাকিব আল হাসান নামলে ফুলার লেন্থ বল করেন অফ স্টাম্প বরাবর। মিড অনে ড্রাইভ করতে গেলে উড়ে যায় তার অফ অফ স্টাম্প। উদ্বোধনীতে বাজে শুরুর দিনে আরও বড় আঘাত হয়ে আসে তামিমের চোট। দ্বিতীয় ওভারে লাকমলের বল পুল করতে গিয়ে ব্যথা পান বাম হাতের আঙুলে। চোট নিয়ে সরাসরি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন সঙ্গে সঙ্গে।

আর পড়ুন:   মেজর সিনহার মৃত্যু: টেকনাফ থানার ওসি ক্লোজড

পঞ্চম ওভারে আরেকটি সুযোগ এসেছিল শ্রীলঙ্কার। লাসিথ মালিঙ্গার বল লিডিং এজ হয়ে বাতাসে ভেসে উঠেছিল। লঙ্কান অধিনায়ক ম্যাথুজ ডাইভ দিয়ে বল তালুবন্দী করার চেষ্টা করলেও হাতে জমা পড়েনি বল। একই ওভারে শেষ দিকে আবারও ক্যাচ উঠিয়েছিলেন মিঠুন। ফিল্ডার বল লুফে নিতে ব্যর্থ হলেও নো বোলের সঙ্কেত দেন আম্পায়ার।

এরপর ঢিমে তালে চলে বাংলাদেশের রানের চাকা। ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় অষ্টম ওভার পর্যন্ত।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে থাকা মুশফিক-মিঠুন লঙ্কান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন ধীরে ধীরে। এই জুটি যখন হুমকি হয়ে উঠছিল তখনই জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগটি আসে। দশম ওভারে থিসারা পেরেরার বল স্কয়ার লেগে আলতো করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিক। লঙ্কান ফিল্ডাররা ব্যর্থতার সেই ধারা ধরে রাখেন মুশফিকের বেলাতেও। ক্যাচ হাতে নিতে পারেননি দিলুরুয়ান পেরেরা।