১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ এবং সুনামের কারণে আমাদের সম্পর্ক আজ পরিপক্বতা লাভ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এ সম্পর্ক বিশ্বের অন্যান্য অংশের জন্য একটা রোল মডেল হিসেবে গণ্য হবে। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ একটা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি। এই সুসম্পর্ক আমাদের দৃঢ় আস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। যাতে আমাদের দুই দেশের জনগণই লাভবান হচ্ছে।’

সোমবার (১০সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে তিনটি প্রকল্প নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। নতুন প্রকল্প তিনটি হচ্ছে— কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ক প্রকল্প, বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন এবং আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেলসংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)।

তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক। দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে দুই দেশের জনগণের কল্যাণ সাধন করতে পারে। আমি নিশ্চিত আমাদের দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় এ ধরনের অনেক সাফল্য গাঁথা আমাদের সামনে উপস্থিত হবে- যা আমরা উদযাপন করতে পারব। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও সেদেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আমরা সব সময়ই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। এটি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিরদিনই একটি মাইলফলক হিসেবে বজায় থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের মধ্যে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ব্লু ইকনোমি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণার মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতেও কাজ আমরা শুরু করেছি।’

বিদ্যুৎ খাতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাত আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে ভারত থেকে আমরা ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ভারত থেকে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করাবার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। আমি আনন্দের সঙ্গে আরো জানাচ্ছি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আরো ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমি আশা করি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই সম্মতি দেবেন।

আর পড়ুন:   জামায়াত নেতা আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

‘আমরা ১৩ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ৫৫ বিদ্যুৎ-কেন্দ্র নির্মাণ করছি। তবে আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য আরও অনেক বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এজন্য আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর অধীনে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছি। আমি আশা করি, এই লক্ষ্য অর্জনে ভারত আমাদের পাশে থাকবে।’

রেলওয়েখাতে ভারতীয় সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন ‘রেলওয়ে খাতেও আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার মালামাল পরিবহণ বৃদ্ধির জন্য ১৯৬৫ পূর্ব রেলসংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।আমি আশা করি, আমরা শীঘ্রই লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারতীয় অর্থায়নে যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের ভিত্তিফলক স্থাপন করতে পারবো।’

এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে সমর্থন দেয়ার জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

যৌথ ভিডিও কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও যুক্ত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দুই পাশে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফকি-ই-ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্তী নরেন্দ্র মোদির পাশে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিন প্রকল্প এলাকায় সংযুক্ত হয়ে কথা বলেন।

আর পড়ুন:   হেফাজতের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা আছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী