৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মো. আবুল হাসান / খন রঞ্জন রায় *

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। অবস্থা ‘মহামারী’ আকার ধারণ করেছে। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর থাকছে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও অনেক। গত সাড়ে তিন বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৫ হাজার ১২০ জন। প্রতিদিন ২০ জন। এই সময়ে আহত হয়েছেন ৬২ হাজার ৪৮২ জন। এসব দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশ ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে।

এসব সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই শিশু, তরুণ ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। এই দুই শ্রেণিকে দেশের ভবিষ্যৎ ও অর্থনীতির মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থক পরিমাণ বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটি সরকারি হিসাব, বেসরকারি হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৭ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। এর বাইরে নিরাপদ সড়ক চাই ‘নিসচার হিসাবে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫ হাজার ৬৪৫ জন। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আহত ও নিহত হচ্ছে যাত্রী-পথচারী এর মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী মীম ও রাজীবের দুর্ঘটনা দাগ কেটেছে জাতীয় জীবনে।

১লা আগস্ট বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস অন্য দিকে বাসের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে অপেক্ষমান যাত্রীদের ওপর তুলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ক্যান্টনমেন্টের শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী মীম ও রাজীব নিহত হয়। আহত হয় ১১ শিক্ষার্থী। এতে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মীম-রাজীব নিহত হওয়ার ঘটনা মেনে নিতে পারেনি তারা। ওই দিনই তারা রাস্তায় নামে। শান্তিপূর্ণভাবে সড়কে হত্যার প্রতিবাদ জানায়। রাস্তায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কিছু বাস ভাঙচুর করলেও অন্য কোনো যানবাহনের ওপর আঘাত করেনি। চলাচলে বাধা দেয়নি। তবে যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না, তাদের চলতে দেয়নি। অ্যাম্বুল্যান্সসহ কোনো কোনো গাড়ি দ্রুত চলাচলে সাহায্য করেছে। কোথাও কোথাও রাস্তায় পড়ে থাকা গাড়ির ভাঙাচোরা গ্লাস পরিস্কার করেছে। ট্রাফিক পুলিশের কাজ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।

নতুনধারার এই প্রতিবাদের প্রতি শুধু অভিভাবকরা নন, সাধারণ মানুষও সমর্থন জানিয়েছে। প্রতিবাদ-আন্দোলনের কারণে রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও নগরবাসী অসন্তুষ্ট হয়নি। গণমাধ্যমও নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন একজন মন্ত্রী। মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত বিচিত্র। তিনি কয়েক দিন আগে ভারতবর্ষে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে সবাইকে (হাসিমুখে) জানিয়েছেন, তারা যদি সেই ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে, আমরা কেন সেটি নিয়ে এত ব্যস্ত হয়েছি। যে সহজ বিষয়টি তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে সেটি হচ্ছে ভারতবর্ষের ঘটনাটি ছিল একটি দুর্ঘটনা, আমাদের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, সেটি এক ধরনের হত্যাকাণ্ড। একটুখানি দায়িত্বশীল হলেই এই ঘটনা ঘটত না।

এরই প্রতিবাদেই সারাদেশের স্কুল শিক্ষার্থী তরুণ প্রজন্ম প্রতিবাদ করছে। তারা স্কুল কলেজ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের প্রশ্ন এইসব ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। রাস্তায় নামা তরুণসমাজের এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তারা পিটিয়ে, মামলা দিয়ে, অনুপ্রবেশকারী দিয়ে নাশকতা করে, স্কুল বন্ধ রেখে, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, তাদের নামে অপবাদ দিয়ে হয়তো এবারও পার পাওয়া যাবে। কিন্তু তাদের বুকের ধিকিধিকি আগুন নিভবে না তাতে। এই আগুন শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই ছাত্রের মৃত্যুতে এক দিনে তৈরি হয়নি। এটি তৈরি হয়েছে বহু বছর ধরে রাজপথে বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞে, এর কোনো বিচার না পেয়ে, এই হত্যাকারীদের দিয়ে পরিবহন ব্যবসা চালানো সরকারি লোকজনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেখে দেখে।

দেশের এই বিপুলসংখ্যক তরুণই আমাদের আগামী, আমাদের ভবিষ্যৎ। সব ভয়কে জয় করে তারা একসঙ্গে প্রতিবাদ করেছে। সেই সঙ্গে রাজপথে তৈরি করেছে কিছু অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য। চাইলেই ভুয়া লাইসেন্স ধরা যায়, উল্টো পথের গাড়ি ফেরানো যায়, সড়কে শৃঙ্খলা আনা যায়- আমাদের বুড়োদের অসামান্যভাবেই তা করে দেখিয়েছে কিশোর-তরুণেরা। এক অভূতপূর্ব অবিশ্বাস্য দৃশ্য। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল পরীক্ষা করছে। যেসব যানবাহনের চালক গাড়ির ফিটনেস সনদ, হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে পারেননি, তারা সেসব যানবাহন থামিয়েছে। পুলিশ ডেকে মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। গাড়ির ফিটনেস কিংবা চালকের হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকা যানবাহন থেকে মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বড় কর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ও গণমাধ্যমের কর্মীদেরও নেমে যেতে বাধ্য করছে তারা।

আর পড়ুন:   একঝাঁকতারকা আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলাআসনে এমপি হতে চান

এই কিশোর-তরুণেরা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কীভাবে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হয়, কীভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হয়। পূর্বসূরিরা অন্ধ হলে উত্তরসূরিরাই পথ দেখায়। রাস্তায় যে কাজটি ট্রাফিক পুলিশকে করার কথা, বিআরটিএর করার কথা, সেই কাজটি করল কিশোর-তরুণেরা। একটি শহরের বিশৃঙ্খলা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মুহুর্তের মধ্যেই নিয়মতান্ত্রিক অবস্থায় নিয়ে এসে তরুণরা যা করেছে, তা সত্যি বিস্ময়। এ বিস্ময় অপার। এ সম্ভাবনা শেষ হওয়ার নয়। সারা বছর যে রাস্তায় যানজট লেগে থাকত, রিক্সার জটের কারণে হাঁটা যেত না, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালাত সবাই, তা বন্ধ করে দিয়েছে এ তরুণরা।

বাংলাদেশের কচি কাঁচা শিশুদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন দেশের সীমানা অতিক্রম করে বিদেশের গণমাধ্যম স্থান করে নিয়েছে। ৩ আগস্ট ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির শিরোনাম ছিল, সড়কে নিরাপত্তা দাবি করছে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা, অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা। নিউইয়র্কভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী টাইম- এর অনলাইন খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলো টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। বাস দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে তাদের এই বিক্ষোভ-অবরোধে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাজধানী অচল হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ বন্ধের আহ্বান জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান- এর শিরোনাম ছিল, দুর্ঘটনার প্রতিবাদে কিশোরদের বিক্ষোভে বাংলাদেশের অংশবিশেষ অচল। ‘বাংলাদেশ প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভ’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা। খবরে বলা হয়, এভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর রাস্তায় নেমে আসার ঘটনা নজিরবিহীন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এই ছাত্র আন্দোলনটি অসাধারণ! অতুলনীয়! এমন দৃশ্য কেউ আগে কখনো দেখেনি, চিন্তাও করেনি। বিশ্বের আর কোনো দেশে এমনটি ঘটেছে কি না তাও আমাদের জানা নেই। নিরাপদ সড়কের দাবীতে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে সাধারণজনের শক্তির উদ্বোধন আমরা প্রথম প্রত্যক্ষ করি। আমরা যারা আশাবাদী মানুষ, তারা সব ধরনের প্রতিকূলতা সহ্য করেই এ দেশে আছি এবং থাকব। আমরা কখনো হতাশায় ভুগিনি। আমরা সব সময়ই স্বপ্ন দেখি এই দেশ নিয়ে। সব সময় বলি, অবশ্যই একদিন বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে। সেই অপেক্ষায় দিন গুণছি। আমাদের প্রজন্ম না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। এ আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের আছে। তারই বারতা দিল আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

‘যদি তুমি ভয় পাও

তবে তুমি শেষ,

যদি তুমি রুখে দাঁড়াও

তবে তুমি বাংলাদেশ’।

এ মুল্যবান লাইনগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। সাধারণ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও এ লাইনগুলো শেয়ার করছেন। লাইনগুলো এ সময়ের তরুণদের ভাবনা থেকে এসেছে। যে তরুণরা ১৮ বছর বয়সের দৃপ্ত-প্রদীপ্ত, তারা এ আধুনিক সময়ে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছে মেধা ও মননে। এ সময়ের তরুণরা অসম্ভব মেধাবী, তাদের অবজ্ঞা-অবহেলা করার কোনো সুযোগই নেই। যুক্তিনির্ভর তরুণরা কোনো ধরনের প্রহসনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। কারণ তাদের কাছে হাতের মুঠোয় গোটা বিশ্ব।

দেশের তথ্য উপাত্ত সড়কের গতি প্রকৃতি তাদের নখদর্পনে। ২০০৯ সালে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৭ শতাংশ চালক ওস্তাদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করে গাড়ি চালানো শিখেছে। তাদের ১৩ শতাংশ নিরক্ষর, ৪৭ শতাংশের প্রাথমিক শিক্ষা ও ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে। পরীক্ষা না দিয়েই ৬১ শতাংশ চালক লাইসেন্স নেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে নিবন্ধিত প্রায় ৩৫ লাখ গাড়ির বিপরীতে। রাজধানীতে প্রায় আট হাজার বাস চলাচল করে। এসব গাড়ীর চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই প্রায় ৪০ শতাংশের। এসব বাসের ৮৮ শতাংশেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। এসব বাসের বেশির ভাগ চালাচ্ছে ভুয়া চালকরা, কখনোবা অল্পবয়সী কিশোর। বাসগুলোর অর্ধেকের নেই উপযুক্ততার  সনদ- কোনোটির সামনের আয়না নেই, ব্রেক নেই, ইঞ্জিন চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। এসব বাসের চালকদের প্রশিক্ষণও নেই। আইন অনুসারে ১৮ বছর না হলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না। অথচ ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোররা যাত্রী পরিবহন করছে দেদারছে।

আর পড়ুন:        হৃদয়ের শূন্যস্থান পূরণে আত্মবিশ্বাসী বাবারা

নতুন গাড়ীর লাইসেন্স প্রদান, পুরাতন গাড়ীর লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ীর ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন জাতীয়ভাবে করে থাকে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এর প্রধান কার্যলয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি বেগুনবাড়িতে। বিআরটিএ, রাজধানী শহর ঢাকা, বিভাগীয় ও জেলা শহরে নিজস্ব কার্যালয় আছে। ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল বাংলাদেশের এক গবেষণামূলক জরিপে দেখতে প্রায় বিআরটিএতে কর্মরত ২৭ হাজার ৮১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত। তাদের কারোর গাড়ী তৈরি, গাড়ী রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রাইভিং শিক্ষায় ডিপ্লোমা বা কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ নেই।

সড়ক দুর্ঘটনা হয় না এমন দেশ নেই। কিন্তু দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি যত কমিয়ে আনা যায় সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভাল যান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, সড়ক ব্যবস্থা উন্নতকরণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিক ও যুগোপযোগী করার বিষয়গুলো তো রয়েছেই। এর সঙ্গে দুর্ঘটনায় পতিতদের ত্বরিত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। এই কাজগুলো নিরলস নির্বিঘ্নভাবে করতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্মরত প্রশিক্ষণহীন ২৭ হাজার ৮১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। নতুবা তাদের স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠাতে হবে।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যুবসমাজকে ভিশন-২০২১ স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে জলে-স্থলে আকাশে ঘরে-বাহিরে অফিস-আদালত-রাস্তা-ঘাটে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা। সকল স্থান থেকে কুসংস্কার দূর করা। অপরাধতত্ত্ব বিশারদদের অভিমত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণবিহীন লোকের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান আর খুনির হাতে পিস্তল দেওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

গাড়ী চালনা একটি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মনস্তাত্ত্বিক সমন্বয়ের জটিল পেশা। একজন চালকের একটি ভুলের জন্য জীবন কেড়ে নিতে পারে, ধ্বংস হতে পারে অনেকগুলো পরিবার। একজন দক্ষ গাড়ি চালকের জানতে হবে গাড়ির প্রতিটি অংশের কার্যক্রম। বাংলাদেশের রাস্তা-ঘাটের মানচিত্র। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাকালের আবহাওয়া। বাংলাদেশ মোটরযান অধ্যাদেশের প্রতিটি ধারা-উপধারাগুলো আত্মস্থ করতে হবে। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, প্রতিক্রিয়া, গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করার পূর্বে যাত্রী বহনে উপযুক্ত কিনা তা জানার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। গাড়ীর সীটে বসার পূর্বে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। দৈবক্রমে দুর্ঘটনা ঘটে গেলে না পালিয়ে আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে প্রেরণের দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করতে হবে। জানতে হবে এদেশে কোনো ধরনের গাড়ী চলাচল উপযোগী। অর্থাৎ জাতীয় জীবনে একজন চিকিৎসকের চেয়ে ড্রাইভারের গুরুত্ব কম নয়। উন্নত বিশ্বে ড্রাইভিং লাইসেন্স জাতীয় পরিচয় পত্রের মত গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ। ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ড্রাইভিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনালজি ও গাড়ী তৈরি বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজি এর সুষ্পষ্ট সমাধান দিতে সক্ষম। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারিভাবে একাধিক ইনস্টিটিউট অব ড্রাইভিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা। এই কাজটি সহজ সরল সমাধান খুজঁতে পারে একমাত্র বিভাগীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড।

লেখকদ্বয়-সভাপতি/মহাসচিব

ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল,বাংলাদেশ।

Khanaranjanroy@gmail.com