৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হানিফ পরিবহনের বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন।শুক্রবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটিগেট এলাকায় এ কর্মসূচিতে নানা বয়সী মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে অংশ নেন। তাদের মুখ ছিল কালো কাপড়ে বাঁধা।

মানববন্ধন চলাকালে হানিফ পরিবহনের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হওয়া পায়েলের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান বলে জানান নিহতের স্বজনরা।

বক্তব্য রাখছেন দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন

দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা, বড় ভাই গোলাম মোস্তফা, মেজ মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী টিটু, সেজ মামা গোলাম রাসেল চৌধুরী, ছোট মামা ফাহাদ চৌধুরী দিপু, উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম, দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশানের সহ-সভাপতি এসএম ইব্রাহীম, সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ রিপন, যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হাসান শিবলু, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল ইসলাম বাবু, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক সারওয়ার হাসান জামিল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুমানা নাসরিন রুমু, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান সুমন, সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন বাবু, মহানগর যুবলীগের সদস্য বেলাল উদ্দিন জুয়েল প্রমুখ।

বক্তারা পায়েল হত্যাকাণ্ডকে মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা বলেন, প্রধানমন্ত্রীও স্বজন হারিয়েছেন। তিনি স্বজন হারানোর বেদনা বোঝেন। আমাদের কষ্টের কথা জানাতে চাই উনাকে। আশাকরি প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাবো আমরা। দেখা না পেলে সন্তান হত্যার দ্রুত বিচার পেতে যাবো আমরণ অনশনে। ছেলের সঙ্গে কবরে যাবো আমরাও।’

এদিকে নিহত পায়েলের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে মানববন্ধন শেষে তাদের হালিশহরের বাসায় আসেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। এর আগের দিন রাতে বাসায় এসে সমবেদনা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমিন।

গত ২১ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে ঢাকা যাওয়ার পথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় পায়েলকে।  ২৪ জুলাই পায়েলের মামা গোলাম সারোয়ারদী বিপ্লব বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হানিফ পরিবহনের বাসচালক জামাল হোসেন (৩৫), সুপারভাইজার জনি (৩৮) ও হেলপার ফয়সালকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার (২৫ জুলাই) তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর জনি ও জামাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে ওঠে আসে, কত নির্মমভাবে তারা পায়েলকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন।

আর পড়ুন:   রোটারী ক্লাব চিটাগাং কমার্শিয়াল সিটির ৪৭তম পাক্ষিক সভা ও বনভোজন