৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট সিটিতে রাত পোহালেই ভোটের উৎসব শুরু হচ্ছে । তিন সিটিতে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচনী এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনী সরঞ্জামও পৌঁছে গেছে নির্বাচনী এলাকায়। অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন অধীর অপেক্ষা কারা হচ্ছেন তিন সিটির পরবর্তী নগর পিতা? আগামীকালই এর ফয়সালা হবে ।

এবারই প্রথম এই তিন সিটিতে মেয়র পদে দলীয় ভিত্তিতে ভোট হতে যাচ্ছে। দলীয় ভিত্তিতে হওয়ায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের নির্বাচনী প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০টি হলেও এই তিন সিটির নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মেয়র পদে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। সব মিলিয়ে তিন সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১৮ প্রার্থী। যদিও নির্বাচনী জরিপ বলছে তিন সিটিতেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। মূলত এই দুই দলের প্রার্থীদের নিয়েই নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ চলছে। এর আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিন সিটিতেই বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেন। তবে এবারের হিসাব-নিকাশে ভিন্ন ফলেরও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসির হিসাব অনুযায়ী তিন সিটিতে মেয়র পদে ১৮ প্রার্থী ছাড়াও কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ৫১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে ১৮ প্রার্থীর মধ্যে রাজশাহী সিটিতে ৫ জন, বরিশালে ৬ জন এবং সিলেটে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনী এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয়ে গড়া স্টাইকিং ফোর্স এবং মোবাইল ফোর্স টহল শুরু করেছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হযেছে, তিন সিটির মধ্যে রাজশাহী ও বরিশালে ১৫ প্লাটুন করে ৩০ প্লাটুন আর সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ প্লাটুন মোট ৪৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার থেকেই তারা মাঠে নেমেছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া তিন সিটির প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত ৪ প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত বিজিবি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাজশাহী সিটির নির্বাচনী হালচাল: ইসির হিসাব মতে এবার রাজশাহীতে মেয়র পদে ৫ জনের মধ্যে একজন স্বতন্ত্র ছাড়া বাকি ৪ প্রার্থী রয়েছেন রাজনৈতিক দলের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহীতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেনের। এ দুটি দল থেকে ২০০৮ সাল থেকেই এই দুই প্রার্থী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুজনই একবার করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন খায়রুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে মোসাদ্দেক হোসেন মেয়র নির্বাচিত হন। তৃতীয়বারের মতো আবারও তারা মুখোমুখি হচ্ছেন এবার। ভোটার জরিপে এবার এ সিটিতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।

খায়রুজ্জামান লিটন ভোটের অস্ত্র হিসেবে এই সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা জোরেশোরে প্রচার করছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন মেয়র থাকাকালীন যে নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন সেটাই বেশি করে প্রচার করছেন জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য। তিনি উল্লেখ করছেন গত ৫ বছরে সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ২৬ মাসই জেলে রেখেছে। একথা বলেই তিনি ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।

এদিকে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে অন্য কোনো দলের জোরাল প্রভাব না থাকলেও জামায়াতের ভোটের প্রভাব রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়ে আছে। ফলে জামায়াতের ভোট বিএনপি প্রার্থী পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কয়েকবার সমঝোতার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙ্গে গেছে। বিএনপির কাছে জামায়াতের দাবি কাউন্সিলর পদে তাদের প্রার্থীদের সমর্থন দিতে হবে। কিন্তু বিএনপি তাতে রাজি হয়নি। অপরদিকে জামায়াত আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী ৩ আসন ছেড়ে দেয়ার দাবি জানালেও বিএনপি এতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের ভোট কোথায় পড়বে তার নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত নেই। জানা গেছে, রাজশাহী সিটিতে জামায়াতের ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোট রয়েছে। এই ভোট বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গেলে ভোটের হিসাবে তারা কিছুটা এগিয়ে থাকবে।

আর পড়ুন:   ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীরাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত-চসিক মেয়র

এছাড়া এই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাদের বড় ধরনের ভোট ব্যাংক না থাকলেও কিছুটা প্রভাব রয়েছে। তারা নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। এই সিটিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ মোর্শেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে তাদের কোনো প্রভাব নেই বললেই চলে।

ইসির হিসাব অনুযায়ী রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ ও মহিলা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ২৬টি। উত্তরের জনপদ রাজশাহী সিটিতে ৩০ সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০ সাধারণ ওয়ার্ড। এখানে ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ১৬০ জন। আর নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ৫২।

বরিশাল সিটির হিসাব-নিকাশ: এদিকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীসহ বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এখানেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিএনপির মোঃ মজিবর রহমান সরওয়ারের।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থবারের মতো এবার বরিশাল সিটিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রথমবার এখানে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার। তিনি এবারও মেয়র পদে নির্বাচনে দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে তিনি চারবার এলাকার নির্বাচিত এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। অপরদিকে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবারই প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবার বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলীয় ভোট ব্যাংকের কারণে। এর মধ্যে মজিবর রহমান সরওয়ার প্রথম মেযর হিসেবে বরিশালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি বলছেন প্রথম মেয়র হিসেবে আমি বরিশালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলাম। এবারও তিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। অপরদিকে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবারই প্রথম প্রার্থী হলেও সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এছাড়া বরিশালে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও তারা এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন ঘোষণা করেছে। যদিও তাদের কোন কর্মীকে নির্বাচনের মাঠে দেখা যায়নি বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে। জানা গেছে এই সিটিতে জামায়াতের মোট ভোট ব্যাংক রয়েছে ১০ হাজারের মতো। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থীর জন্য সমস্যা হযে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহাবুব।

এ দলের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোট রয়েছে। আগের সব নির্বাচনে তারা বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু এবার দলের প্রার্থী থাকায় বিএনপির বাক্সে তাদের কোনো ভোট পড়ছে না। দলটির প্রার্থী হেফাজতের বরিশাল বিভাগীয় আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এলাকায় তার প্রভার রয়েছে। এছাড়া দলটির প্রধান চরমোনাই পীরের বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় তারও একটি প্রভাব ভোটের মাঠে কাজ করবে বলে জানা গেছে।

বিগত তিনটি নির্বাচনে বরিশাল সিটিতে প্রথমবার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তৃতীয়বার ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেযর ছিলেন বিএনপির আহসান হাবিব কামাল। অপরদিকে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণ দ্বিতীয়বার ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই সিটিতে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে এবার আহসান হাবিব কামাল এবং শওকত হোসেন হিরণ কেউই দলীয় মনোনয়ন পাননি। এবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ ভোটারদের মধ্যে তরুণ প্রার্থী হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। এ কারণে কে হচ্ছেন এই সিটির মেয়র তা দেখার জন্য আগামীকাল ভোট পর্যন্ত নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়াও এ সিটিতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী এবং জাতীয় পার্টির মোঃ ইকবাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে তাদের প্রভাব নেই বললেই চলে।

আর পড়ুন:   ৬কোটি টাকার মনোনয়নফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ

বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ ও মহিলা ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। ভোট কেন্দ্র ১২৩টি ও ভোট কক্ষ ৭৫০টি। ৩০টি ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ১০ ওয়ার্ড নিয়ে বরিশাল সিটি গঠিত। এখানে ওয়ার্ড কাউন্সির হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ৯৪ আর নারী প্রার্থী ৩৫ জন।

সিলেটের হালচাল সিটি : এদিকে সিলেট সিটির মেয়র পদে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানা গেছে। এর আগের নির্বাচনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দুবার এবং আরিফুল হক চৌধুরী একবার করে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও তারা দুই দল থেকেই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে নির্বাচনের মাঠে দুজনেরই অবস্থান শক্তিশালী বলে জানা গেছে।

তবে এই নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি নিয়ে নির্বাচন করছেন। জানা গেছে সিলেটে জামায়াতেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। প্রতিবার জামায়াতের ভোট বিএনপির প্রার্থীর বাক্সে গেলেও এবার তাদের প্রার্থী থাকায় জামায়াতের ভোট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দলীয়ভাবে কয়েকবার সমঝোতার চেষ্টার পর জামায়াতের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে জামায়াতের ভোটও এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এছাড়া সিলেট সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ভোটের মাঠে তারও কিছু প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মোঃ আবু জাফর এবং অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ এহসানুল হক তাহের ও মোঃ বদরুজ্জামান সেলিমও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মেয়র পদে।

সিলেট সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ ও মহিলা ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি ও ভোট কক্ষ ৯২৬টি। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী মোট ৭ জন। সিলেটে মোট ২৭ ওয়ার্ড এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত। ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৬ কাউন্সিলর প্রার্থী। নারীদের সংরক্ষিত ১০ ওয়ার্ডে ৫৫ প্রার্থীও অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচন  সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে : তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন যেমন সুষ্ঠু ও বিশৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে, ঠিক তেমনি রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিশৃঙ্খলার যে আশঙ্কা করছেন-তা মিথ্যা। নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলার কোনও সুযোগ নেই।’