৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ সকল ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের প্রত্যাহারে সমাজের সকল স্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী  শনিবার চট্টগ্রাম ক্লাব সম্মেলনকক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধানঅতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। কর্মশালায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে সকল প্রকার শিশুশ্রম নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গৃহকর্মী সুরক্ষায় নীতিমালা করা হয়েছে, এখন আইন করবে সরকার। বিভাগীয় শহরগুলোতে এক লাখ শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের আওতায় এসকল শিশুকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা হবে। জেলা প্রশাসকগণকে নিজ নিজ জেলায় কোন খাতে কি পরিমাণ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে তার একটি তালিকা শ্রম মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংসদ-সদস্য বেগম মাহজাবীন মোরশেদ বলেন, গৃহকর্মীরা গৃহকর্তার আমানত। আমানতের উল্লেখ করে বলেন, নিজের আমানতকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করবেন না। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান শিল্প কারখানায় মালিকদের বলেন, শ্রমিককে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দিন। তিনি শিপব্রেকিং শিল্পকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। শ্রম মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে তিন বছর মেয়াদী প্রায় তিন’শ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের ডাটাবেস করা হবে। একই সাথে শিশুদের উপযুক্ত হয়ে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে বাবা–মাকে সহায়তা করা হবে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. শামসুজ্জামান ভুঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তাইন হোসেন বক্তৃতা করেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন। কর্মশালায় জানানো হয় চট্টগ্রাম জেলার এগারটি উপজেলাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকল উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সরকারি–বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসনে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে পাঁচ জন অসুস্থ, দুর্ঘটনায় নিহত, পঙ্গু শ্রমিক এবং নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন সহায়তা হিসেবে দুই লাখ ষাট হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।

আর পড়ুন:   কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবলো বঙ্গোপসাগরে