১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সারা দেশে একযোগে চালু না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগাহাট ও দাউদকান্দির ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ’ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছ্নে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১৮ জুলাই) আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীরা শুধু চট্টগ্রামে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা চালুকে এ জনপদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ ও ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলেন, এ কারণে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানি ধ্বংস, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সক্ষমতা হারানো, ব্যাংক ঋণের ফলে উদ্যোক্তারা দেউলিয়া ও ভোক্তাসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, বন্দর ও রাস্তাঘাট জট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের লোকসান হবে বলেও মন্তব্য করেন।

এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের কাছে ওজন স্কেল, ভ্যাট তল্লাশি কেন্দ্র, ইলেকট্রনিক সিল, চট্টগ্রাম থেকে ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তির দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেন।

এর আগে রোববার (১৫ জুলাই) এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিতের দাবিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন এবং মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে স্মারকলিপি দেন।

মতবিনিময় সভায় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আক্তার হোসেন, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ, প্রাইম মুভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুল হক, লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি এমএন কবির, চট্টগ্রাম চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম, বিজিএপিএমইএর পরিচালক কেএইচ লতিফুর রহমান (আজিম), চাক্তাই শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ, ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম মহিউদ্দিন (মুহিম), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, চট্টগ্রাম ফ্রেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রানা, আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান (রুবেল), ক্যাব সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহার সাবেরী, জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল, কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ, বৃহত্তর শাহ আমানত সেতু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম, মাঝিরঘাট সার পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ইলিয়াছ আহমেদ ভূঁইয়া এবং রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বক্তব্য দেন।

আর পড়ুন:   সাঈদা মুনা তাসনিম যুক্তরাজ্যে নতুন হাইকমিশনার

চেম্বার সভাপতি বলেন, শত প্রতিবন্ধকতা ও ঝুঁকির মধ্যেও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বিগত ৪৭ বছরে চট্টগ্রাম তথা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও উন্নয়নে বেসরকারি খাত বড় অবদান রেখে আসছে এবং এক্ষেত্রে সরকার ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু শুধু চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে ১৩ টন ওজনের বাধ্যবাধকতার কারণে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন না করতে সারা দেশের আন্তঃজেলা মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল স্থাপন না করা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ বন্ধ রাখার দাবি জানান চিটাগাং চেম্বার সভাপতি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন যার ফলে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকারের অধীনে অত্র অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তাই প্রয়োজনে সামগ্রিক বাস্তবায়নগত বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে ব্যবসায়ীদের দাবি তুলে ধরা হবে।

পাশাপাশি এসব সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অবহিত আছেন তাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য রক্ষা ও বৈষম্য দূরীকরণে তারা সমন্বিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে মাহবুবুল আলম আশাবাদ জানান।

সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এখন ‘চট্টগ্রাম বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে একটি খোলা চিঠি প্রেরণের আহ্বান জানান তিনি।