১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময় বিনোদনকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।  মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান সুজন।

এসময় তিনি বলেন সম্প্রতি নগরীর সিআরবি, ফয়েসলেক, আগ্রাবাদ এবং কাজীর দেউড়ী শিশুপার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং এ সংখ্যা দিনের পর দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্লাশে না গিয়ে ওইসব স্পটে শিক্ষার্থীরা আড্ডায় মগ্ন হচ্ছে। প্রায়শই ইউনিফরম পরিহিত অবস্থায় এসব শিক্ষার্থীদের আড্ডার পাশাপাশি মোবাইলে মত্ত হতে দেখা যায়। এসব বিনোদন কেন্দ্রসমূহে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেকটা নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্রের ভাসমান দোকানসমূহও এসব আড্ডার কেন্দ্রস্থল। তাই এসব বিনোদন কেন্দ্রে স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব। সে দায়িত্ববোধ থেকে সামাজিক এ অবক্ষয় দূরীকরণে সবাইকে এগিয়ে আসারও অনুরোধ জানান তিনি। সুজন বলেন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একদিকে যেমন সুন্দর মনের স্ফুরণ ঘটায়, অন্যদিকে তেমন মার্জিত চরিত্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই হেলায়-ফেলায় নিজের জীবনকে নষ্ট না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর আহবান সুজনের। তাছাড়া বর্তমান সময়ে অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীকে জীবিকার প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হচ্ছে। তাই অনেক সময় সন্তানদের সময়মতো খোঁজ খবর রাখতে পারছেন না অভিভাবকরা। এতে করে সন্তানরা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে আড্ডায় তাদের মহামূল্যবান সময় নষ্ট করছে। ফলত পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষাজীবন অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সন্তানদের সময়মতো খোঁজ খবর রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ শিক্ষকদেরও এক্ষেত্রে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত আছে কিনা, কোন শিক্ষার্থী কখন ক্লাশে আসলো, কখন বের হয়ে গেলো তাও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা এবং ক্লাশে অনুপস্থিতি’র কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করে এর সমাধানের পথ বের করতে হবে। স্কুল-কলেজে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। সেখানে তাদের শেখাতে এবং বোঝাতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধুর সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। তাই এসব বিনোদন কেন্দ্রসমূহে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সকল প্রকার শিক্ষার্থীর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে গড়ে উঠা ভাসমান দোকানগুলো যাতে ঐ সময় পর্যন্ত বিক্রির পসরা বসাতে না পারে সেদিকে নজর রাখার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন খোরশেদ আলম সুজন।