৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাঙালি পিঠার সঙ্গে বিশেষ পরিচিত সেই প্রাচীনকাল থেকে । বাহারী পিঠা কার না পছন্দ। শৈশব থেকে আজ অবদি পিঠা একটি মুখরোচক খাবার যে কাউকে আসক্ত করে। স্থান–কাল–অঞ্চল ভেদে  নামের জৌলুশে  হরেক রকমের পিঠাপুলি মানুষের রসনাতৃপ্তি মেটায়। তেমনি সাধারণ পিঠাকে অসাধারণ উপায়ে তৈরির মাধ্যমে রসনাতৃপ্ত করা হয়। আসলে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে  পিঠা তৈরি বা খাওয়ার একটা উৎসবকে উপলক্ষে আনতে হয়। নিত্যদিনও পিঠা খেতে বাধা নেই, তবে কোনো উৎসব ছাড়া পিঠা তৈরি বা খাওয়া একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

পিঠা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন ও সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. দিদারুল আলম

বাংলার বিভিন্ন নবান্ন উৎসব ও বিশেষ কোনো আচার অনুষ্ঠানে অনেক ধরনের পিঠা তৈরির প্রচলন আদিকাল থেকেই চলে আসছে।

করোনামহামারির কারণে পুরোশীত মৌসুমে বন্ধ খাকায় প্রায় দুইবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হয়নি পিঠা উৎসব। পিঠাউৎসবের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বিলম্বে হলেও আজ বৃহস্পতিবার (১০মার্চ) কলেজের হলরুমে এমন একটি পিঠাউৎসবের আযোজন করে সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজ।

চারদিকে শীতপিঠার মৌ মৌ গন্ধ। এমন মিষ্টি-মধুর পরিবেশে সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের শতশত ছাত্রী-শিক্ষক যোগ দিয়েছেন পিঠা খাওয়ার উৎসবে।একই ক্যাম্পাসে থাকা সীতাকুণ্ড গার্লস স্কুলের ছাত্রী ও শিক্ষকরাও স্বতস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেয়।

পিঠা উৎসবে কেনাকাটায় ব্যস্ত শিক্ষকমণ্ডলী

যান্ত্রিক জীবনে পিঠাপুলির স্বাদ নিতে কলেজ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শীতকালীন পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন  সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন।হরেক রকমের পিঠাপুলি দেখে ‍তিনিও মহাখুশি।এসব স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতেও ব্যস্ত হয়ে যান ইউএনও নিজে। পিঠা উৎসবে আসেন সীতাকুণ্ড যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা  মো. শাহ আলম।

সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. দিদারুল আলম চাটগাঁর বাণীকে জানান, পিঠাউৎসব খুব জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।মহামারির কারণে আমরা সেকেন্ড ইয়ার ছাত্রীদের বরণও করে নিতে পারি নি। তাই শীতশেষ হয়ে গেলেও এসব ছাত্রীদের উদ্দেশ্য আমরা শীতকালীন পিঠা উৎসব আযোজন করেছি, আমরা পারিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে তবে আগামীতে  বর্ষাবরণ অনুষ্ঠান করবো।”

কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসা থেকে তৈরি করে নিয়ে আসেন ঝাল মিস্টিসহ নানা ধরণের পিঠা।পিঠাউৎসবে ছিল  মোট ১৬টি স্টল।এসব স্টলে দেশি বিভিন্ন পিঠার পাশাপাশি নতুন রেসিপিতে তৈরি পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। প্রতিটি স্টলে ৫জন করে ছাত্রী পিঠাবিক্রিতে অংশ নেয়। একেকটা স্টলে দেড় থেকে দুই হাজারেরও বেশি টাকার পিঠা বিক্রি হয়েছে, শিক্ষকরাও একেকজন  পাঁচশ-একহাজার টাকার  পিঠা কিনেছেন বলে জানান অধ্যক্ষ মো. দিদারুল আলম।

নতুন রেসিপিতে তৈরি পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রিতে অংশ নেন ছাত্রীরা