৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন খুলনার সুমাইয়া মোসলেম মীম। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯২ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছেন তিনি। সব মিলে তার প্রাপ্ত নম্বর ২৯২ দশমিক ৫। ১ এপ্রিল খুলনা মেডিক্যাল কলেজ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এ শিক্ষার্থী।

আজ মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ফল ঘোষণা করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন-যা পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এদের মধ্যে মেয়ে উন্নীত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৫০৪ জন (৫৬ দশমিক ০৯ শতাংশ) এবং ছেলে ৩৪ হাজার ৮৩৩ জন (৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ)। এ বছর সর্বোচ্চ ৯২ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছেন সুমাইয়া মুসলেম মীম। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৫০ জন দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। যাদের মধ্যে এক হাজার ৮৮৫ জন ছেলে এবং ২ হাজার ৩৪৫ জন মেয়ে। বাকিদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা ছয় হাজার ৪৮৯টি।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম খুলনার সুমাইয়া মোসলেম মীম। মা-বাবার মাঝখানে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার সরকারি এম এম সিটি কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া মোসলেম মীম। বাবা মোসলেম উদ্দিন সরদার ডুমুরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। মা খাদিজা খাতুন কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট । ডুমুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরাজি এলাকায় বাড়ি তাদের। পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে খুলনা শহরের মৌলভীপাড়ার ১৪ টিবি বাউন্ডারি রোড এলাকায় থাকেন মীম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে যশোর বোর্ডের অধীনে ডুমুরিয়া গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পান মীম। ২০২১ সালে একই বোর্ডের অধীনে সরকারি এমএম সিটি কলেজে থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

তার এমন ফলে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। মীমের মা বলেন, ‘আমার জীবনে একটাই চাওয়া ছিলো আমার মেয়ে বড় হয়ে চিকিৎসক হবে। সেই চাওয়া এখন পূরণ হতে চলেছে। ভাবতে পারিনি এতো ভালো ফল করবে।’

মীমের বাবা মোসলেম উদ্দিন সরদার বলেন, ‘গ্রাম থেকে লেখাপড়া করে এতো ভালো করবে এটা ভাবতেই পারিনি। অনেক আনন্দ লাগছে, আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। মীমের মা সারাদিন চাকরি করে প্রায়রাত ওর পাশে জেগে বসে থাকতো। এতোদিনের কষ্টের শেষে ওদের আনন্দেই আমার বুক ভরে যাচ্ছে ‘

সেরা হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সুমাইয়া মোসলেম মীম বলেন, ‘এটি আমার জন্য সবচে’ খুশির সংবাদ। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় কঠোর পরিশ্রম করার ফল এটি। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে মীম বলেন, ‘সবার আগে চাই ভালো মানুষ হতে। এরপর একজন ভালো চিকিৎসক হতে চাই। আমাদের সমাজের মানুষের একটা খারাপ ধারণা রয়েছে, চিকিৎসক মানেই কসাই। এই ধারণা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’