১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে হাতে হাত ধরে চলবে। ফলে আসিয়ান ও সার্কভুক্ত দেশের সেতু হতে পারে বাংলাদেশ।

বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে গঠিত জোট আসিয়ান-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মুস্তফা কামাল।

ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসে ঢাকা আসিয়ান কমিটি (ডাক) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পৃথিয়াসমিয়ারসি সোমারনোসহ আসিয়ান দেশগুলোর হাইকমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনামন্ত্রী মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ’সহ অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক সমস্যা। এটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আসিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারকে এ বিষয়ে আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য আহ্বান করছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিয়ে শান্তিপূর্ণ এশিয়া গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়েও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ এশিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এআরএফ এবং আসিয়ানের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু দুটি ঐতিহাসিক অঞ্চলের মধ্যে সেতুবন্ধনই রচনা করবে না, এর সঙ্গে বিনিয়োগ বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েও অবদান রাখবে।

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের ৯ শতাংশ মানুষ বাস করে। এটি উন্নয়নশীল দেশের আঞ্চলিক জোটগুলোর মধ্যে অন্যতম সফল জোট। এই জোটের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিঃসন্দেহে আশাব্যাঞ্জক। আসিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি (এইসি) বিশ্বের পঞ্চম এবং চীন ও ভারতের পরে তৃতীয় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যোগ করেন মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, বেশকিছু বিশ্ব জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনিয়োগ সুবিধার দ্বিতীয় দেশ। শ্রমমূল্য, জমি ও বিদ্যুৎ সুবিধা, বিশ্ববাজারের জিএসপি সুবিধা প্রভৃতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্য।

১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট আসিয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘ডাক’ যাত্রা শুরু করে।