১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

‘ভিটামিন এ ’ অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুকে রক্ষা করে, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও মৃত্যুঝুঁকি কমায় বলে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদি ডায়রিয়া, হামসহ মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ভিটামিন এ ক্যাপসল খাওয়াতে হবে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধনকালে উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে নগরীর চকবাজারস্থ নাজমিয়ে ডেমিরিল চ্যারিটেবল ক্লিনিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সংরক্ষিত কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্ত, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, ডা. ইমাম হোসেন রানা, আমিরুল ইসলাম রনজু, আবদুল মান্নান মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী উপস্থিত একটি শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানোর মধ্যদিয়ে চারদিন ব্যাপী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সে সময় তিনি বলেন, ভিটামিন এ  এছাড়াও কোনো শিশু যদি গত চার মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসল খেয়ে থাকে তাকে এই ক্যাম্পেইনে টিকা খাওয়ানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, ৬-থেকে ১১ মাস বয়স শিশুকে একটি নীল রঙের প্রায় ৮০ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসল ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রঙের প্রায় ৫ লাখ শিশুকে ক্যাপসল খাওয়ানো হবে এবং নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ১২৮৮টি টিকা কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আগামী চার দিন এই টিকা খাওনো হবে।

ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার কার্যক্রম উদ্বোধন

ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার উদ্বোধনী র্যা লি নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন স্বপ্ন,

জুগিয়েছে নতুন পথ চলার অদম্য প্রেরণা। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী নির্ভূল তথ্য

প্রদানের জন্য প্রথম বারের মতো ডিজিটাল শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের

উদ্যোগে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। ইতিপূর্বে পাঁচ বার আদম শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো আদমশুমারি তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

থেকে শুরু করে সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। জনশুমারি ও গৃহগননার কর্মসূচী আজ ১৫ জুন হতে ২১ জুন পর্যন্ত সাতদিন ব্যাপী

চলবে। দেশের প্রকৃত অবকাঠমো ও জনসংখ্যা তথ্যের বৃহৎ উৎস হলো এ শুমারি।

ডেল্টাপ্লান্ট ২১০০ রুপকল্প ২০৪১ তথা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনসহ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূল্যায়নে জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য উপাত্ত অপরীসিম ভূমিকা

পালন করবে। জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনায় অন্তর্ভূক্ত হওয়া বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের দায়িত্ব। তাই

শুমারি কর্মীদের সঠিক তথ্যপ্রদান ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য মেয়র নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সকালে নগরীর নন্দনকানন

থিয়োটার ইন্সটিটিউট থেকে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, নুর মোস্তাফা টিনু, সংরক্ষিত কাউন্সিলর

রুমকি সেনগুপ্ত, সচিব খালেদ মাহমুদ ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাসেম প্রমুখ।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

অপর্ণা চরণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্বধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আজকের বিদায় অনুষ্ঠানে মুলত বিদায় নয়, এটা তোমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি ধাপ অতিক্রম

মাত্র। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার সার্টিফিকেট অর্জন নয় বরং জ্ঞান ও গুণের সমৃদ্ধিতে আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হচ্ছে শিক্ষার মুল আর্দশ। তাই

নিজেকে আলোকিত ও ভাল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সাফল্যের পথ যতই দুর্গম ও ভঙ্গুর হোক না কেন অবিচল নিষ্ঠা ও কর্মোদ্যম নিয়ে সকল বাধাকে তুচ্ছ করে সাহসের সাথে এগিয়ে চলতে পারলে তোমাদের সফলতা অনিবার্য্। আমি বিশ্বাস করি আগামীতে তোমরা সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করে এ বিদ্যালয়ের

সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখবে। আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অপর্ণাচরণ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংর্বধনা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি একথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর সলিমল্লাহ বাচ্চু, শৈবাল দাশ সুমন, আবদুস সালাম মাসুম, নাজমুল হক ডিউক, সংরক্ষিত কাউন্সিলর নীলু নাগ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, শিক্ষা কর্মকর্তা উজালা রাণী চাকমা, স্কুল কমিটির সদস্য ওমর আলী ফয়সল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জারেকা বেগম।

মেয়র আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচলনা করা অপরিহার্য। সাংস্কতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নত মননশীলতা তৈরী করা সম্ভব।

তিনি চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরী করার পদেক্ষপ নিবেন বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শহীদুল আলম বলেন, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তবে সাফল্য নিশ্চিত। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথ চলার বিষয়ে এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে

যাওযার আহবান জানান এবং শিক্ষাজীবনে তাদের সফলতা কামনা করেন।