১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রী একজন ক্যারিশম্যাটিক লিডার এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরবরাই তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে তিনি তাঁর বাবাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, আমার নেত্রী একজন ক্যারিশমাটিক লিডার।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদরা এ দেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। আর এ দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সফলও হয়েছেন।

এইচ টি ইমাম বলেন, বাবার আদর্শের পথকে আরো সুদৃঢ় করতে আমার নেত্রী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে সফল লিডার হিসেবে প্রমাণও করেছেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া আর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা এক বিষয় নয়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কটা শুরু হয় জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কখনো দাবি করেননি যে, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি যেভাবে বলে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, আমার মনে হয় কবরের মধ্যে যদি জিয়াউর রহমান শুনতে পেতেন, লজ্জায় উনি কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা আর ঘোষণা দেয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে ঘোষণা বহুজন পাঠ করেছেন। বেতারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ (২৬ মার্চ) করেন তৎকালীন অবিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান। এরপর চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা সিদ্ধান্ত নেন সেনাবাহিনীর অফিসার দিয়ে পাঠ করানোর, তখন জিয়াউর রহমানকে দিয়ে পাঠ (২৭ মার্চ) করানো হয়।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২৬ মার্চ নিজের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী নুরুল হক শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। নূরুল হকের মতো আরো মানুষ সারাদেশে মাইকিং করে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যারা এ বিতর্ক তৈরি করেছে তারা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়। তবে মানুষ এখন প্রকৃত ইতিহাস জেনে গেছে। এরপর কেউ কেউ উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলার চেষ্টা করে।’

নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানানোর জন্য ছাত্রলীগকে পাঠচক্র আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান ড. হাছান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান।