৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প হিসেবে পাটের তৈরি ‘সোনালী ব্যাগ’ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৮’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের স্মরণে সারাদেশে একযোগে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সোনালী ব্যাগের গুণাগুণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা শুনে খুশি হবেন যে, এখন পাটের পলিমার থেকে যেটা পচনশীল সেই ধরনের ব্যাগ তৈরি হচ্ছে। আমরা এটার নাম দিয়েছি ‘সোনালী ব্যাগ’। এই সোনালী ব্যাগ পরিবেশ দূষণ করবে না। পাটকে তার সোনালী দিনে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ যেমন নিয়েছি, সেই সঙ্গে এই আবিস্কারটাও করা হয়েছে এবং পাটের ওপর গবেষণা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই সোনালী ব্যাগটা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া পাটের ছোট ছোট থলে, ব্যাগ এগুলোও ব্যবহার করা যায়। এমনকি ফ্যাশনের জন্যও ব্যবহার করা যায়। আমি যে ব্যাগটা (হ্যান্ডব্যাগ) ব্যবহার করছি সেটা কিন্তু পাটের তৈরি ব্যাগ।

পাট থেকে নানা ধরনের পণ্য তৈরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাপী যখন পরিবেশের কথা আসছে, আমরা পাট উৎপাদনকারী একটি দেশ। এ পাট পণ্য উৎপাদন করে এর বহুমুখী ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারি, বিদেশে রফতানিও করতে পারি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা চাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারাও উদ্যোগটা নেবেন। ধীরে ধীরে প্লাস্টিকটাকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দিয়ে… হয় এটাকে (প্লাস্টিক) পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে না হয় আস্তে আস্তে এটাকে সরিয়ে দিতে হবে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গাছ লাগিয়ে দেশে প্রথম সারাদেশে বৃক্ষরোপন অভিযান শুরু করার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে এই প্রথমবারের মত মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে দেশের ৮১ হাজার ৪৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপনের উদ্বোধন করা হয়, যার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের সব মানুষকে বৃক্ষরোপন অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য বৃক্ষরোপন একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কাজেই এজন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাই যে, প্রত্যেকে একটা বনজ, একটা ফলজ ও একটা ঔষধি গাছ লাগান। আ.লীগ সরকার পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,  তার সরকার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৭৫’ পরবর্তী শাসকরা সুন্দরবনের নদ-নদী, খাল ও চ্যানেলগুলো বন্ধ করে চিংড়ি চাষ প্রকল্প করায় এখানকার পানি লবনাক্ত হয়ে পড়েছিল। তার সরকার এই নদী এবং খাল পুনর্খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তা জাহাজ চলাচলের উপযুক্ত করে তুলেছে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবেশ বিষয়ক নতুন একটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। নদীর তীর, কবরস্থান, পতিত জমি এবং বাড়ির ছাদ ও ব্যালকনিসহ সর্বত্র গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরির ওপর গুরুত্তারোপ করেন তিনি। জায়গা-জমি পতিত না রেখে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ২০১৮, বৃক্ষরোপনে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার ২০১৮ এবং জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৮’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ছাতিম গাছের চারা রোপন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন।