২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পোশাক রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতিতে আছেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বুধবার ( ৮আগস্ট)নগরীর দক্ষিণ খুলশীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ভবনের সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন।

সভায় বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, “সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা ফিরে গেল। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরের দুইদিন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটে জনজীবনের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও বিঘ্নিত হয়েছে।

“সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। আমদানি করা পণ্য বন্দর থেকে নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্য জাহাজীকরণের জন্য সময়মত বন্দরে পৌঁছানো যায়নি।”

তিনি বলেন, পণ্য জাহাজীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় ডিসকাউন্ট দিতে হবে এবং বেশি ভাড়ায় বিমানযোগে পাঠাতে হবে। এজন্য বন্দরে জট এবং বর্হিবিশ্বে ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়। ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যায়।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাবে রপ্তানিযোগ্য এক হাজার ১৬৮টি বক্স কন্টেইনার ছাড়াই পাঁচটি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করে বলে জানান মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু।

এরমধ্যে অধিকাংশই তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্যবাহী কন্টেইনার জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের এজন্য ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ কত তা সংশ্লিষ্ট পণ্য মালিকদের কাছ থেকে তথ্য পেলে প্রকাশ করব।

“সামনে ঈদুল আজহা আসছে। আমাদের তো নির্ধারিত সময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হয়। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরিবহনের ঘোষিত ও অঘোষিত ধর্মঘটে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকদের পক্ষে সময়মত মজুরি পরিশোধ কষ্ট সাধ্য হবে।”

মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা করতে চাই। আশা করি কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাই মিলে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “এ শিল্পে ৪৫ লাখ শ্রমিক। দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এমন কিছু কারোই করা ঠিক হবে না যাতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশা করি সরকার ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না ঘটে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সভায় লিখিত বক্তব্যে বন্দরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্বল্পতার চিত্র তুলে ধরে তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. ফেরদৌস, পরিচালক কাজী মাহবুব উদ্দিন জুয়েল, সাইফুল্লাহ মনসুর এবং আমজাদ হোসেন চৌধুরী।