১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি *

রাস্তার দুই পাশের অনেক স্থানে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বাফুফে ভবন পর্যন্ত । লাল-সবুজ পতাকা ওড়ছে কারও হাতে, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন কেউ কেউ ।  প্রিয় খেলোয়াড়দের এক পলক দেখতে সবাই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। প্রচণ্ড গরমেও উৎসাহে কমতি ছিল না। আর এই ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন সাবিনারা একটু অন্যভাবে। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি নিয়ে ছাদখোলা বাসে করে সাবিনা-সানজিদারা ঢাকাশহর প্রদক্ষিণ করে ফুটবলপ্রেমীদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (২১সেপ্টেম্বর)এই দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিরল!

সাবিনা-স্বপ্নারা আগেও বয়সভিত্তিক ফুটবলের ট্রফি জিতেছেন। দেশে কিংবা দেশের বাইরে। কিন্তু কখনোই এমন অভূতপূর্ব দৃশ্যের মুখোমুখি হননি। আগে গ্যালারি কিংবা মাঠ থেকে বের হয়ে আসার সময় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবার বাঁধভাঙ্গা উল্লাস। বল্গাহীন আনন্দ। আগের সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। অনন্য অর্জনে উৎসবে মেতেছে সবাই।

আগে কখনও সাবিনারা পাননি হাজারো মানুষের এমন উজাড় করে দেয়া ভালোবাসা। বেলা বাড়তেই বিমানবন্দরে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। আর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জনাকীর্ণ উপস্থিতি তো ছিলই। তখনও ছাদখোলা বাসটি আসেনি। বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দেশের মাটি স্পর্শ করার পরই বিমানের ভেতরেই কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে মুহূর্তটি।

ভিআইপি লাউঞ্জে তখন ঘোষক বারবার সাফজয়ী চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন বার্তা দিচ্ছিলেন। মিষ্টিমুখ করে ভিড়ের কারণে সাবিনারা লাউঞ্জে কোনোমতে আসতে পারলেও পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হতে পারেনি। সেখান থেকে ভিড় এড়িয়ে তাদের অন্য পাশে নেয়া হয়। এর বেশ কিছু সময় পর লাউঞ্জের বাইরে মিনিট কয়েকের জন্য নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়ে গেছেন সাবিনা-ছোটনরা।

বাইরে তখন খোলা ছাদের বাসটি অপেক্ষায় ছিল তাদের বরণ করে নিতে। আর সামনেই বাদ্য-বাজনা বাজছিল। বাসে ওঠার আগে সবাই  ভিজেছেন ফুলের বৃষ্টিতে । নিরাপত্তা কর্মীদের বেষ্টনী ঘিরে সাবিনাদের বাস ততক্ষণে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।

বিমানবন্দরের বাইরে তখন ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার পালা। খোলা বাসের একদম সামনে অধিনায়ক সাবিনা। হাতে ট্রফি। তার পাশে সানজিদা আক্তার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাশুরা পারভীনসহ অন্যরা। সংবলিত ব্যান্ডিং করা বাসটিতে চড়ে বসেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ বাফুফের কর্মকর্তারাও। রাস্তার দুপাশে তখন মানুষজনের ভিড় ছিল দেখার মতো।

বিমানবন্দর থেকে বিজয়ীদের বাস কাকলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি ফ্লাইওভার, তেজগাঁও পেরিয়ে মগবাজার-মৌচাক-কাকরাইল-ফকিরাপুল-মতিঝিল হয়ে পৌঁছায় বাফুফে ভবনে। ততক্ষণে সূর্যের আলো নিভে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। কয়েক ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিতে দুধারে প্রচুর মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছে ফুটবল দল।

শেষটাও কম জমকালো হয়নি। বাফুফে ভবনে তখনও অনেক মানুষ। অধীর অপেক্ষা। সেখানে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ছাড়াও অন্যরা তাদের রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিয়েছেন। নিজের ঢেরাতে ফেরার অন্য রকম আনন্দ। এই দীর্ঘ যাত্রায় সাবিনাদের ক্লান্ত মনে হলেও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সবকিছুই বৃষ্টির পরশের মতো উবে গেছে। সবার হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসায় সিক্ত সাবিনা-সানজিদারা।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে  ।