৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

প্রথম ওয়ানডে জেতায় বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছিল। যাতে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় গভীরভাবে। মেহেদী হাসান মিরাজ আগের দিন তেমনটাই বলে গিয়েছিলেন। তাই বলে সাফল্য এভাবে ধরা দেবে, মিরাজ তো দূরে থাক, কারোর ভাবনাতেই আসার কথা নয়! কিন্তু হলো তা-ই। দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে ইতিহাস লিখলো বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের ৯ উইকেটে হারিয়ে তাদের মাঠে প্রথমবার সিরিজ জয়ের উৎসব করলো তামিম ইকবালরা।

আজ বুধবার(২৩মার্চ) সেঞ্চুরিয়নের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ছিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচ দুই দল একটি করে জেতায় ‘ফাইনালে’ রূপ নিয়েছিল লড়াইটি। যেখানে বাংলাদেশের একক আধিপত্য। ব্যাটিং-বোলিংয়ে আক্ষরিক অর্থেই প্রোটিয়াদের নিয়ে খেলেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। প্রথমে তাসকিন আহমেদের তোপে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ব্যাট হাতে শাসন করে ২৬.৩ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

সিরিজ জয় তো দূরের কথা, এই সিরিজের আগে কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোনও ফরম্যাটে কোনও জয় ছিল না বাংলাদেশের। এবারের মিশনে সেঞ্চুরিয়নের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস নতুন করে লিখে তামিমরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম জয় পায় সেঞ্চুরিয়নের ওয়ানডে দিয়ে। কিন্তু পরের ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সে খেই হারালে প্রোটিয়ারা সমতা ফেরায় সিরিজে। আজ সেই সেঞ্চুরিয়নে ফিরে দাপুটে পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ করলো বাংলাদেশ।

১৪১ বল আগে মাত্র ১ উইকটে হারিয়ে জয়, বোঝাই যাচ্ছে কতটা দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সহজ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় সফরকারীরা। মনে হচ্ছিল, দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-লিটন দাস মিলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবেন দলকে। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১২৭ রান। জয় থেকে তখন কেবল ২৯ রান দূরে সফরকারীরা। সেই সময় আউট হয়ে যান কেশব মহারাজের সৌজন্যে একবার ‘জীবন’ পাওয়া লিটন। ক্যাচ মিস করা ওই মহারাজের বলেই তেম্বা বাভুমার হাতে ধরা পড়েন ডানহাতি ব্যাটার। ফেরার আগে ৫৭ বলে ৮ বাউন্ডারিতে খেলে যান ৪৮ রানের ইনিংস।

লিটন আউট হলেও দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন তামিম। এই সিরিজে ধীরগতিতে রান তোলায় সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক শেষ ম্যাচে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। অপরাজিত ৮৭ রানে সহজ লক্ষ্য আরও সহজ করে দিয়েছেন তিনি। ৮২ বলের চমৎকার ইনিংসটি তামিম সাজান ১৪ বাউন্ডারিতে। অন্যদিকে উইনিং শটে সিরিজ জয় রাঙিয়ে নেয়া সাকিব ২০ বলে ২ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে।