১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর হত্যার প্রতিবাদে সড়কে নেমে এসেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় হাজারো জনতা। শুক্রবার(২৩আগস্ট) সকাল থেকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের জাদিমুরা এলাকার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ ও ভাংচুর করে তারা। এসময় তারা হত্যাকারী রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবি জানাতে থাকে।

এদিকে ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার সাথে সাথে এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম, ইউএনও মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার আবুল মনসুর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশসহ র‌্যাব-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জনতাকে শান্ত করা যায়নি। পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (২৪) গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গারা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওমরকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তিনি একই এলাকার আব্দুল মুনাফ সওদাগরের ছেলে। নিহত ওমর হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগ ৯নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও জাদিমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

নিহতের বাবা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদ ও সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তার ছেলেকে খুন করে।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, এসময় ওমর বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুল সংলগ্ন জাদিমুরা বাজারে একটি দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। অতর্কিতে অস্ত্রধারীরা সেখানে গিয়ে তাকে টেনেহিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গুলি করে সটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ওমর হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানান, ঘটনায় শতাধিক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করে। তারা হত্যাকাণ্ড শেষে দলবেঁধে শালবাগান পাহাড়ের দিকে চলে যায়।