১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষিজমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে জমি নষ্ট করা একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি রক্ষার জন্য একটা নীতিমালা বা মাস্টার প্ল্যান থাকা দরকার। এখন অনেকের টাকা-পয়সা হয়েছে। যে যেখানে খুশি দালান-কোঠা তুলছেন। যত্রতত্র বাড়িঘর ও দালান-কোঠা নির্মাণ করলে পরে তাদের নাগরিক সুবিধা দেয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ঘরবাড়ি নির্মাণ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলায় মাস্টার প্ল্যান করতে হবে উল্লেখ করে কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রাখা এবং উপজেলাভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য সচিবদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের একটা ভৌগোলিক সীমারেখা আছে। তাছাড়া এ দেশে জনসংখ্যাও অধিক। আমরা এ দেশের মানুষকে একটি সুন্দর ও চমৎকার জীবন দিতে চাই। উন্নয়নটা শুধু শহরকেন্দ্রীক হলেই চলবে না। তৃণমূল থেকে যদি উন্নয়ন করতে না পারি তাহলে আমাদের সাফল্য আসবে না। তা না হলে অহেতুক রাজধানীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতা এটা যেমন বন্ধ করতে হবে আবার গ্রামীণ কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যেন গ্রামে বসেই একজন মানুষ শহরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়। আমার গ্রাম আমার শহর ঘোষণা দেয়ার পরপরই প্রায় পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার সমগ্র বাংলাদেশের তৈরি করে দিয়েছিলাম। ওখানে বসেই যেন তারা কম্পিউটার শিক্ষা, অনলাইন সুযোগ সুবিধা নিতে পারে। সেই সাথে সাথে ব্রডব্যান্ড প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ আরও বেশি ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।

শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন খেটেখুটে কাজ করে দুর্নীতির কারণে যদি সব নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটা খুব দুঃখজনক। তবে দুর্নীতির ক্ষেত্রে কেউ ঘুষ নিলেই সে অপরাধী তা নয়, যে ঘুষ দেয় সেও অপরাধী। এ ধরনের অপরাধ দমন করতে হবে। ঘুষ দুর্নীতি চলতে থাকলে সমাজের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বব্যাপী একটি বড় সমস্যা। জঙ্গিবাদকে দমন করার জন্য আমরা কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। অনেকটা সফলও হয়েছি। এটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারছি। এর সফলতা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। সাথে সাথে আমাদের উন্নয়নটা যেন বাধাগ্রস্ত না হয় এ জন্য নিম্নস্তর পর্যন্ত সতর্ক রাখতে হবে। এ নির্দেশনা আপনারাই (সচিব) দেবেন। কাজের প্রতি আপনাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ পালন করব। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আমরা স্বাধীনতার পঁচিশ বছর পূর্তি পালন করেছি। ২১ সালে আমরা সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। সেই সাথে আমরা জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী পালন করব। কারণ, তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। মাত্র ৫৪ বছরের একটা জীবন পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই সময় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে একটা দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার যে স্বপ্ন সেটা তিনি পূরণ করতে পারেননি। আজ বাংলাদেশে কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নিশ্চয় আমি বিশ্বাস করি যে, তার আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ থেকে ২০২১ এরই মধ্যে বাংলাদেশে একটা ভিক্ষুক থাকবে না। একটা মানুষ গৃহহারা থাকবে না, একটা মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। এখনো সবাই যে সচ্ছল তা না, অন্তত কেউ যেন অসচ্ছল না থাকে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এসব বিষয়ে আমরা যেন গর্ব করে বলতে পারি।

চীনের প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধ বেশি। আমরা ইতোমধ্যে ৮ ভাগে পৌঁছেছি। ৮ এর বেশি উঠলেই প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। এটা ইকোনমিক্সের একটা বিষয়। আমাদের লক্ষ্য আমরা ৮ পয়েন্ট টু-তে (৮.২) যাব। এটা আমরা করতে পারব বলেই বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এটা তো আমাদের দেশে আছেই এবং ভৌগোলিক কারণেই এটা হয়ে থাকে। এখন সারাদেশে বন্যা চলছে। এ বন্যা পাহাড়ি, হাওর বা একটু উচু অঞ্চলে আছে। এ পানিটা ধীরগতিতে নেমে আসতে আসতে নিম্ন অঞ্চলগুলো প্লাবিত হবে। এ জন্য আপনারা সাবধান থাকবেন এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। বন্যায় মানুষের যেন প্রাণহানি না ঘটে এবং খাদ্যের জন্য মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।